রবিবার,২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭
হোম / সম্পাদকীয় / সংযমের আদর্শে মৌলবাদ রুখে দাঁড়ানোর প্রত্যয়
০৬/১৭/২০১৭

সংযমের আদর্শে মৌলবাদ রুখে দাঁড়ানোর প্রত্যয়

-

আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ এখন মৌলবাদী জঙ্গিত্বের থাবায় লাঞ্ছিত। এই দেশের শান্তিপ্রিয় সাধারণ মানুষ বরাবরই অসাম্প্রদায়িক চেতনায় লালিত, উদার মানবিকতার গৌরবে ঋদ্ধ তাদের মন-মানসিকতা। একাত্তরে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ঐতিহ্যলালিত ধর্মনিরপেক্ষতার চেতনা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, কিছুসংখ্যক বিপথগামী মানুষ ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে সহিংস, অমানবিক, নৃশংস পথের পথিক হয়ে উঠছে। তারা সুকৌশলে বিভ্রান্ত ও প্ররোচিত করছে কোমলমতি, অপরিণত বয়সের তরুণদের। এমন অনভিপ্রেত বিপর্যয় এড়ানো এবং কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্যে চাই দেশবাসীর সম্মিলিত প্রতিরোধ, কার্যকর ও লাগাতার সামাজিক আন্দোলন। একা কোনো সরকারের পক্ষে এমন ভয়াবহ সংকট মোকাবেলা করা সম্ভব নয়। জঙ্গিত্ব, মৌলবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ ও সক্রিয় সচেতন কার্যকর আন্দোলন গড়ে তুলতে পারলে অবশ্যই আশার আলো দৃশ্যমান হবে। প্রগতির পথে দেশের অভিযাত্রা বাধামুক্ত ও গতিশীল হবে। সংযম সাধনার অন্তে পবিত্র ঈদুল ফিতরের প্রাক্কালে এই হোক আমাদের অঙ্গীকার ও প্রত্যয়।

একাত্তরে যে-দেশ ধর্মান্ধ, ধর্মব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে লড়াই করে মুক্ত হয়েছে, সে-দেশে যখন মানবাধিকার আন্দোলনের বিশিষ্ট নেত্রী সুলতানা কামালকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হয়, নারীবাদী সাহসী লেখক তসলিমা নাসরিনকে দেশছাড়া হতে হয়, সে পরিস্থিতিতে আমরা উদ্বিগ্ন ও শঙ্কিত না হয়ে পারি না। সিয়াম সাধনার মাসে এ ধরনের হুমকি ও উগ্র আস্ফালন কোনোমতেই সমর্থনযোগ্য নয়। আমরা এমন তৎপরতার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। কারো মত প্রকাশের স্বাধীনতা বিঘ্নিত হলে খোদ গণতন্ত্রই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে। ইসলাম মানবিকতার ধর্ম। শান্তির কথাই বলা হয়েছে সবখানে। পরমতসহিষ্ণুতা, সহনশীলতা, ক্ষমাকে গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে। আমরা চাইব, পবিত্র ধর্ম ইসলামের যেন ভুল ব্যাখ্যা না দেওয়া হয়, ধর্মের দোহাই দিয়ে নিরীহ শান্তিপ্রিয় মানুষকে ভুল পথে পরিচালিত করা না হয়।

অনন্যা’র এবারের ঈদসংখ্যায় আমরা আমাদের সীমিত সাধ্যের আওতায় সর্বাত্মক চেষ্টা করেছি পাঠকদের বৈচিত্র্যস্বাদু, আনন্দঘন এবং একইসঙ্গে চিন্তা উদ্রেককারী রচনা উপহার দিতে। দেশি-বিদেশি খ্যাতিমান লেখকদের রচনার সঙ্গে উদীয়মান লেখকদের রচনাও গ্রন্থিত হয়েছে। কতটুকু সফল আমরা হতে পেরেছি, তা বিবেচনা ও মূল্যায়নের ভার প্রিয়-শ্রদ্ধেয় পাঠকদের ওপর।

এ-বছর অনন্যা ঈদসংখ্যায় সাহিত্য আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে ঈদফ্যাশন সংখ্যাও। একই প্যাকেটে বাড়তি পাওনা হিসেবে পাঠকরা পাচ্ছেন সেটি। সাহিত্য ও হালফিল ফ্যাশনের খুঁটিনাটিসংবলিত এই সম্ভার কোনো পরিবারে সবার ঈদের আনন্দ যেন আরো উপভোগ্য করে তোলে, তাই ছিল আমাদের উদ্দেশ্য। ঈদের আনন্দ আরো বেশি উৎসবরঙিন, আরো বর্ণিল, আরো ব্যাপক হয়ে উঠুক, সেটাই আমাদের একান্ত প্রত্যাশা।

পাক্ষিক অনন্যা সব সময়েই নারী লেখকদের পাদপ্রদীপের আলোয় তুলে আনতে চায়। দেশের সর্বত্র স্বীকৃতিবঞ্চিত নারীর প্রতিভা বিকাশের মহতী লক্ষ্যে, নারীর ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে, তাদের ওপর বৈষম্য-নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সোচ্চার, আপসহীন এবং নিরন্তর এই লড়াইয়ে অঙ্গীকারবদ্ধ। আমাদের স্বপ্ন, বিশ্বাস ও কাজেকর্মে সেগুলোর আন্তরিক ও একনিষ্ঠ প্রতিফলন রয়েছে।

আনন্দের বিষয়, পাঠকের ভালোবাসা, অনুরাগ, প্রীতি সম্বল করেই আমরা নিয়মিত প্রকাশনার ২৮টি বছর পার করে এসেছি। দীর্ঘ এই পথযাত্রায় অনেক চড়াই-উৎরাই পার হতে হয়েছে। পত্রিকা প্রকাশনার পাশাপাশি আমরা সারাদেশে বছরের আলোচিত, নন্দিত, কর্মযোগী দশ শীর্ষ নারীকে খুঁজে বের করে সম্মাননায় অভিষিক্ত করছি তাদের। এ অর্জন নিতান্ত কম নয়। ঈদ উৎসবে আমাদের পাঠকসমাজ, বিজ্ঞাপনদাতা, এজেন্ট, হকার, শুভাকাক্সক্ষীদের জানাই আন্তরিক প্রীতি, শুভেচ্ছা। ধন্যবাদ সংশ্লিষ্ট সবাইকে। ঈদ মোবারক।

- তাসমিমা হোসেন