বুধবার,২৬ Jul ২০১৭
হোম / বিজ্ঞান-প্রযুক্তি / বাড়ির বয়স্কদের করুন প্রযুক্তি-শিক্ষিত
০৬/১১/২০১৭

বাড়ির বয়স্কদের করুন প্রযুক্তি-শিক্ষিত

-

এই ডিজিটাল যুগে দিনে দিনে প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের কারণে একের পর এক ডিভাইস সহজলভ্য হয়ে উঠেছে এবং তা সবার হাতের মুঠোয় পৌঁছে যাচ্ছে। দৈনন্দিন জীবনে প্রযুক্তির ব্যবহার কোনো নির্দিষ্ট বয়সের মানুষের জন্য সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা সবার জন্য উন্মুক্ত। তবে পরিবারের বয়স্ক মানুষদের কাছে প্রযুক্তির এই সুবিধা তরুণদের মতো না। বলার অপেক্ষা রাখে না প্রযুক্তি মানুষের জীবন আরো সহজ করেছে এবং এর আবশ্যকতা তরুণদের পাশাপাশি বৃদ্ধদের মাঝেও কম নয়। তাই পরিবারের বয়স্ক সদস্যদের প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়ার সময় এসেছে।

- বয়ঃজ্যেষ্ঠদেরকে নিত্যনতুন ডিভাইস বা সার্ভিসের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়ার আগে এটা মনে রাখতে হবে যে তাদের কাছে এই ভার্চুয়াল জগৎ একেবারে অচেনা এবং তাদেরকে এসবের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে হলে সহজ কিছু দিয়ে শুরু করতে হবে। এই যেমন কুকিস, বাফারিং শুরুতে এসব জিনিসে না গিয়ে শুরুতে কিভাব ব্রাউজার ব্যবহার করতে হয় বা অ্যাপে ঢুকতে হয় এসব জিনিস ব্যাখ্যা করুন।

- যে কোনো জিনিস শেখার শুরুর পর্যায়টা বেশ কঠিন এবং তা যে কোনো ডিভাইস ব্যবহারের জন্যও সত্য। তাই যাকে শেখাচ্ছেন তাকে ধারাবাহিকভাবে অনুপ্রেরণা দিতে থাকুন। একদিক থেকে চিন্তা করলে জিনিসটা অনেকটা ছোটবেলায় মা-বাবার কাছ থেকে অক্ষরজ্ঞান নেয়ার মতো। এখন দৃশ্যপট এবং চরিত্রগুলো একই থাকবে কিন্তু যার যার ভূমিকা শুধু বদলে যাবে।

- ডিভাইস বা অ্যাপ ব্যবহারের আগে পরিবারের বড়দের মধ্যে অনেক সময় অজানা ভয় দেখতে পাবেন। যেমন এই বাটন প্রেস করলে বুঝি ডিভাইস বন্ধ হয়ে যাবে, এভাবে টাচ করলে নষ্ট হয়ে যাবে এমন ভাবনা। তাই শুরুতেই এই বিষয়টি পরিষ্কারভাবে বলে নিন যে ভয় পাওয়ার কিছু নেই, এরকম কিছু করলেও ক্ষতিকর কিছু হবে না।

- ডিভাইস বা সার্ভিস ব্যবহার করার যাকে শেখাচ্ছেন তাকে নিজের মতো করে চেষ্টা করতে দিন। এমনকি তা একেবারে ভুল হলেও। এভাবে ভুল করতে করতেই শেখার কাজটা এগোবে। এর সঙ্গে অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে যে, এই ব্যাপারগুলো নিয়ে হাসাহাসি করা যাবে না। একবার মনে করে দেখুন, প্রথম যেদিন ফেসবুকে লগ ইন করেছেন সেদিন প্রথম পোস্টটা করতেও আপনাকে বেশ বেগ পেতে হয়েছে।

- বয়ঃজ্যেষ্ঠদের নিজেদের মতো পরিকল্পনা করতে দিন। অনেকেই দেখবেন বছরের পর বছর খাতাকলমে হিসেব-নিকেশ বা নোট করতে করতে এটা একেবারে অভ্যাস বানিয়ে ফেলেছেন। তাই আপনি যাই বলবেন তা খাতা বা ডায়েরিতে নোট করে টুকে রাখবেন। তাদের শেখার প্রক্রিয়া এভাবে হলে তাতে বাধা না দিয়ে এভাবেই শিখতে দিন। দেখবেন কিছুদিন পরে নিজে থেকেই সবকিছু পারছেন।

- আপনার খন্ডকালীন ছাত্রছাত্রী কীভাবে শিখতে চান তা সম্পর্কে জানুন। অনেকেই যেমন হাতেকলমে দেখে দেখে শিখতে পছন্দ করেন, অনেকে আবার রিডিং ম্যাটেরিয়াল থেকে শিখতে পছন্দ করেন। এই যেমন ধরুন মোবাইল বা ট্যাবের মাধ্যমে আপনার মা বা বড় বোন নতুন নতুন রেসিপি শিখতে চান। এটার একটা উপায় হতে পারে ইউটিউবের মতো ভিডিওভিত্তিক সাইট, আরেকটা উপায় হতে পারে রেসিপিভিত্তিক বøগ। মোটকথা, তারা যেভাবে শিখতে চান সেভাবেই আপনার এই বিশেষ লেসন সাজান।

- শাহরিয়ার মাহী
ছবিঃ নাঈম শান