রবিবার,২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭
হোম / সম্পাদকীয় / নারী হাতবদলের জিনিস নয়
০৫/১৬/২০১৭

নারী হাতবদলের জিনিস নয়

-

সামাজিক বাধা-বিপত্তি, কুসংস্কার, রক্ষণশীলতার বেড়াজাল ভেঙে বাংলাদেশের নারী এগিয়ে চলেছে। সেই অগ্রযাত্রার সূচক হিসেবে অনেকে অনন্যা শীর্ষদশকে বিবেচনা করে থাকেন। এটা আমাদের জন্যে শ্লাঘার বিষয় নিঃসন্দেহে। গত ৬ মে ২০১৭ আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রের ১০ কৃতী, উদ্যমী ও দৃঢ়প্রত্যয়ী নারীর হাতে তুলে দেওয়া হলো শীর্ষদশ সম্মাননা ২০১৬। আমরা গর্বিত ও আনন্দিত যে, দীর্ঘ সময় ধরে ধারাবাহিকভাবে নারীমুক্তি অর্জনের এই কষ্টসাধ্য কর্মকাণ্ড সামনের দিকে এগিয়ে চলেছে। বৈষম্যকবলিত নারীসমাজের জাগরণে, তাদের আত্মমর্যাদা নিশ্চিতকরণ, প্রাপ্যঅধিকার আদায়ের সংগ্রামে ব্যতিক্রমী প্রয়াসের এই সম্মাননা নারীর জন্যে মহার্ঘ এক অনুপ্রেরণা। শক্তি ও সাহসের পাথেয় বিশেষ। যাঁরা এবার সম্মাননা পেয়েছেন, তাঁদেরকে আবারও হার্দ্য অভিনন্দন। আমাদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতেও তাঁরা বিপুল কর্মযজ্ঞে আরো বলিষ্ঠ, আরো উজ্জ্বলতর অবদান রাখতে সক্ষম হবেন। তাঁদের সাধনা, নিষ্ঠা ও কীর্তির আলো নিজ দেশের গণ্ডি পার হয়ে বহির্বিশ্বেও ছড়িয়ে পড়ুক। বাংলাদেশের নারীদের অর্জন অন্য দেশের জন্যেও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে উঠুক।

শীর্ষদশ সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি রাজপথের লড়াকু সৈনিক, একসময়ের অগ্নিকন্যা, যোগ্য ও সফল কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী জঙ্গি কার্যক্রমে নারী ও শিশুকে আত্মঘাতী কাজে ব্যবহারের ঘটনায় কঠোর নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সকলকে এর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এ সংকট মোকাবেলার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। জঙ্গিরা যে ঠিক করে দিচ্ছে তাদের কেউ মারা গেলে পরবর্তীকালে তার স্ত্রীর কার সঙ্গে বিয়ে হবে- তা ভয়ানক উৎকণ্ঠা ও অপমানজনক ব্যাপার। নারীরা হাতবদলের জিনিস নয় কোনোমতেই। জঙ্গি তৎপরতার এইসব ঘৃণ্য পাশবিক প্রবণতার নির্মম অভিশাপ থেকে জাতিকে মুক্ত করা এখন সময়ের চ্যালেঞ্জ। পশ্চাৎপদতা ও ষড়যন্ত্রের এই অন্ধকার দূর করা জাতির প্রত্যেক সদস্যেরই দায়িত্ব ও কর্তব্য। বাংলাদেশের শান্তিপ্রিয় সাধারণ মানুষ কখনোই উগ্রতা পছন্দ করে না। অসাম্প্রদায়িকতা আমাদের গর্বিত ঐতিহ্য, সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার। বাংলাদেশের জনগণ ধর্মকে রাজনীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের ঘোর বিরোধী। আমরা আশাবাদী, জঙ্গিত্বের এই কালো অধ্যায়ের অবসান অবশ্যই হবে। নারী তার আপন মর্যাদায় অধিষ্ঠিত হবে। বাধার পাহাড় পার হয়ে সেই পথ যারা তৈরি করছেন, লড়াই করছেন নিরন্তর, আমাদের অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা তাদের জন্যে।
পবিত্র শবেবরাত পালিত হলো। আল্লাহ যেন আমাদের সবাইকে সুমতি দেন, সেই প্রার্থনা। ইদানীং আমরা দেখছি, হঠাৎ বিত্তবান হয়ে ওঠা এক শ্রেণির মানুষের ‘সুপুত্র’রা ব্যভিচারে লিপ্ত। বিপথগামী কিছু তরুণ ন্যক্কারজনক অপকর্মের পর ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকার অপচেষ্টা করছে। সঙ্গত কারণেই প্রশ্ন ওঠে, সিলেট থেকে তাদের সিরিয়া যেতে কতক্ষণ? নিকট অতীতে আমরা দেখেছি, বিত্তবান শ্রেণির বখে যাওয়া তরুণদের কেউ কেউ জঙ্গিত্বে উদ্বুদ্ধ হয়েছে। হলি আর্টিজান হত্যাকাণ্ডের মতো ভয়াবহ ঘটনা ঘটিয়েছে তারা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও আমরা বলব নজরদারি আরো বাড়াতে, দায়িত্ব পালনে আরো সিরিয়াস হতে। অনভিপ্রেত এসব ঘটনা প্রতিরোধ করার জন্য চাই সব মহলের সম্মিলিত, সমন্বিত ও কার্যকর প্রয়াস।

- তাসমিমা হোসেন