বুধবার,২৬ Jul ২০১৭
হোম / বিবিধ / মায়ের মৃত্যু, ডিপ্রেশন এবং প্রিন্স উইলিয়াম
০৫/১৫/২০১৭

মায়ের মৃত্যু, ডিপ্রেশন এবং প্রিন্স উইলিয়াম

-

এ-বছরের অগাস্ট মাসে ব্রিটিশ রাজবধূ প্রিন্সেস ডায়ানার বিশতম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হবে। বিশ্বজুড়ে আইকন হিসেবে ডায়ানার পরিচিতি ব্যাপক, সৌন্দর্য আর ফ্যাশনে তিনি ছিলেন অদ্বিতীয়। এইডস রোগ বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি, ভূমি মাইনের বিরুদ্ধে আন্দোলন, দানশীলতার জন্য খ্যাত ডায়ানার কোলজুড়ে আসে রাজপরিবারের দুই উত্তরাধিকারী প্রিন্স উইলিয়াম ও প্রিন্স হ্যারি। বিশ্বের সর্বাধিক আলোকচিত্রিত ডায়ানার খ্যাতিই তার জীবন কেড়ে নেয়, প্রাণ হারান ডায়ানা দুটি কিশোর ছেলেকে রেখে।

কিন্তু মৃত্যুর বিশ বছর পরে ডায়ানার স্মৃতি আজো উজ্জ্বল দুই ছেলে প্রিন্স উইলিয়াম এবং প্রিন্স হ্যারির মাঝে। সম্প্রতি ছোটো ভাই হ্যারির পদাঙ্ক অনুসরণ করে জনসম্মুখে মায়ের মৃত্যুর শোকের কথা প্রথমবারের মতো বলেন প্রিন্স উইলিয়াম। মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর প্রচেষ্টায় সবার সামনে মা’কে নিয়ে কথা বলেন উইলিয়াম। প্রিন্স উইলিয়াম তাঁর মায়ের মৃত্যু-পরবর্তী অনুভূতি ও অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রথমবার খোলাখুলিভাবে কথা বলেছেন বিবিসি১ এর একটি ডকুমেন্টারির জন্য।

দুই সন্তানের বাবা প্রিন্স উইলিয়ামস বলেন, “২০ বছর পরও মা হারানোর শোক আমাকে তাড়া করে বেড়ায়। আমি আজও সেই শোক কাটিয়ে উঠতে পারিনি-২০ বছর পরেও না।”

তিনি আরও বলেন, “তবে মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি আমার সচেতনতা শুধু এই ঘটনার জন্যই শুরু হয়নি, আমি এখন যেসকল দাতব্য কাজের সঙ্গে জড়িত, সব ঘুরে ফিরে মানসিক স্বাস্থ্যতেই ফিরে আসে।” উল্লেখ্য উইলিয়াম ‘এয়ার এ্যাম্বুলেন্স’ কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত থাকায় তাকে অনেক আত্মহত্যা-জনিত পরিস্থিতি দেখতে হয়েছে।

মায়ের মৃত্যু নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ৩৪-বছর বয়সী এই প্রিন্স বলেন যদিও অনেকেই মনে করেন ধাক্কা বা শোক সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ম্লান হয়ে যায়, কিন্তু আসলে না।

“এতো বড় একটি ব্যাপার কখনোই আপনার পিছু ছাড়ে না, পুরো ব্যাপারটি কাটিয়ে নতুনভাবে শুরু করা কোনোভাবেই সম্ভব না। তাই শিখে নিতে হয় শোকের সঙ্গে মানিয়ে জীবন কাটাতে,” বলেন উইলিয়ামস।

রয়্যাল জুটি উইলিয়াম ও কেট উপস্থিত হন শো ‘মাইন্ড ওভার ম্যারাথন’-এর প্রশিক্ষণে, যেখানে মানসিক স্বাস্থ্য দ্বারা প্রভাবিত দশজন প্রতিযোগীর কথা তুলে ধরা হয়েছে। উইলিয়ামের মতে মানসিক অসুস্থতাকে স্বাভাবিকভাবে দেখা উচিত কেননা শারীরিক অসুস্থতা হতে এটি কোনো অংশেই কম নয়। তিনি মানসিক অবস্থা নিয়ে কথা না বলাকে তুলনা করেন ট্র্যাজেডির সঙ্গে।