বুধবার,২৬ Jul ২০১৭
হোম / ভ্রমণ / ঘুরে আসুন গোলাপের রাজ্য সাদুল্লাপুরে
০৫/১০/২০১৭

ঘুরে আসুন গোলাপের রাজ্য সাদুল্লাপুরে

-

ঢাকার ব্যস্ত জীবন থেকে মুক্তি পেয়ে প্রকৃতির কোলে আশ্রয় নিয়ে তাজা হতে চাচ্ছেন? অথবা বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরে সময় কাটানোর জন্য ঢাকার আশপাশে সুন্দর জায়গা খুঁজছেন? ঘুরে আসতে পারেন ঢাকার কাছেই গোলাপের রাজ্য সাদুল্লাপুর থেকে, খুব অল্প খরচে।

যেদিকে চোখ যায় সারি সারি গোলাপ বাগান। বাতাসে ভেসে আসা ফুলের সৌরভ মন মাতাবে আপনার। লাল টকটকে গোলাপ মাথা নাড়িয়ে স্বাগত জানাবে তার রাজ্যে। এই হল সাদুল্লাপুর, গোলাপের রাজ্য।

গ্রামের প্রায় সকল লোকের পেশা গোলাপ চাষ। পুরো গ্রামে বছরজুড়ে মূলত লাল গোলাপের চাষ হয়। লাল গোলাপ ছাড়াও গ্রাম-জুড়ে রয়েছে সাদা গোলাপ, জারবেরা ও গ্ল্যাডিওলাস ফুলের বাগান।

ঢাকার বাজারের ফুলের চাহিদার যোগান আসে এখান থেকেই। প্রতিদিন প্রায় ৬০ থেকে ৭০ হাজার পিস ফুল বিক্রি হয় এখান থেকেই যা ঢাকার বাজারের ফুলের চাহিদার প্রায় ৭০ ভাগ।

যদি খুচরা গোলাপ কিনতে চান, ৫০-১০০ পিস কিনে নিতে পারেন নিজের জন্য ৮০-১২০ টাকার মধ্যে। যদি কোন উপলক্ষে অধিক পরিমাণ গোলাপ দরকার হয়, ৩০০ পিস গোলাপ ফুলের আঁটি বিক্রি হয় ৩০০-৪০০ টাকায়।

ঢাকার মিরপুর দিয়াবাড়ি ট্রলার ঘাট থেকে মাত্র ৩০ মিনিটের দৃষ্টিনন্দন যাত্রার পর দেখা মেলে সাদুল্লাপুর গ্রাম। ট্রলার চলার পথে গ্রামের সুন্দর দৃশ্য, বক পাখির ঝাঁক ও নানা প্রজাতির পাখির ডাকে মন উদাস হতে বাধ্য। এই যাত্রা শেষ হবার পরে ট্রলার থেকে নেমে ৫০ গজ সামনে গেলে পাবেন বাজার। এই বাজার পার হলেই রাস্তার দুই পাশে সারি সারি গোলাপ বাগান।


ঢাকার বিভিন্ন স্থানে মিরপুর বেড়িবাঁধ পর্যন্ত যাবার বিভিন্ন বাস সার্ভিস আছে। সেসব বাসে উঠে বটতলা ট্রলার-ঘাটে নামতে হবে। এছাড়া মিরপুর এক নম্বর গোলচত্বর কিংবা গাবতলি থেকে রিকশাতেই দিয়াবাড়ি বটতলা ঘাট যাওয়া যায়।

দিয়াবাড়ি গোল চত্বরে মসজিদের পাশেই সাদুল্লাপুর যাবার ট্রলার ঘাট। ঘাট বেশ ঢালু এবং বালু পরিপূর্ণ, নামার সময় আছাড় খাবেন না যেন! ঘাট থেকে ট্রলার ছাড়ে ৩০ মিনিট পরপর। জনপ্রতি ভাড়া ২০ টাকা।

ঘাটে নামার বিড়ম্বনা উপেক্ষা করতে চাইলে অথবা পানি এড়িয়ে চলতে চাইলে মিরপুর-১ থেকে লেগুনায় করেও যাওয়া যাবে। তবে এই মাধ্যমটি এড়িয়ে যাওয়াই ভালো, কেননা ট্রলার যাত্রার সৌন্দর্যটা কোনোক্রমেই মিস করা উচিত হবে না!

পৌছনোর পরে হেঁটেই পুরো গ্রাম দেখতে পারবেন। চাইলে রিকশা নিয়েও ঘুরে দেখতে পারেন। পুরো গ্রাম ঘুরে দেখার জন্য রিকশা ভাড়া পরবে ৫০-৭০ টাকার মতো।

খাবারের ব্যবস্থা সাদামাটা ধরণের, বৈশিষ্ট্যপূর্ণ কিছু নেই। খাবার সাথে নিয়ে গেলে খুব ভালো হয়, আরও ভালো হয় যদি ট্রলারে উঠার পূর্বেই আহারাদি সেরে নিন, যদি না পারেন সেক্ষেত্রে বাজারে দুটি খাবার হোটেল আছে মোটামুটি মানের। সেখানে ভাত, ভর্তা, সবজি, ছোটমাছ ইত্যাদি পাওয়া যায়। তবে সকাল/সন্ধ্যার নাস্তা হিসেবে পুরি/সিঙ্গারা পাবেন। তাছাড়া একটি মিষ্টির দোকানও রয়েছে।

ঘুরতে গিয়ে পরিবেশ নষ্ট না করাই উচিৎ, মনে রাখবেন যে আমরা আমোদ ও উপভোগ করতে গেলেও ফুলগুলোর আসল উদ্দেশ্য আমাদের মুগ্ধ করা নয়, এর উপরে ওখানকার গ্রামবাসীদের জীবিকা নির্ভর করছে। তাই ফুলের যেন কোনও ক্ষতি না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখা জরুরি।

ঢাকার আশেপাশে অল্প সময়ের জন্য কোথাও ঘুরে আসতে চাইলে সাদুল্লাপুর হতে পারে উপযুক্ত গন্তব্য। যাত্রাপথে যেমন নদীর মনোরম দৃশ্য উপভোগ করতে পারবেন, তেমনি গোলাপের সৌন্দর্যও দেখতে পারবেন কাছ থেকে।

লেখা ও ছবিঃ আলভী