রবিবার,২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭
হোম / সম্পাদকীয় / নারী শ্রমিকের ন্যায্য অধিকারনিশ্চিত করতে হবে
০৫/০৪/২০১৭

নারী শ্রমিকের ন্যায্য অধিকারনিশ্চিত করতে হবে

-

শ্রমিকের অধিকার আদায়ের প্রতীক মহান মে দিবস এসে গেল। রক্তাক্ত আন্দোলনের মাধ্যমে মেহনতী শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সেই ঘটনা শতাব্দী প্রাচীন। এতকাল পরেও বিশ্বব্যাপী আমরা কী দেখি? শ্রমিকদের অধিকার সর্বত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তারা ন্যায্য মজুরি পাচ্ছেন, এমন কথা বলা চলে না। আমাদের প্রিয় স্বদেশের হালনাগাদ চিত্রটা কেমন? নারী শ্রমিকদের অনেকে এখনো শোষিত-বঞ্চিত থাকছেন। সব ক্ষেত্রেই পুরুষের সমান শ্রম দিচ্ছেন নারীরা। কিন্তু মজুরি পাচ্ছেন কম। হেনস্তা-হয়রানিরও শিকার হচ্ছেন অনেক নারীকর্মী। এ বৈষম্য আর অন্যায় কতকাল চলবে? যতদিন চলবে, অধিকার আদায়ের সংগ্রামও অব্যাহত থাকবে ততদিন।

একথা ঠিক যে, বাংলাদেশের নারীরা আগের তুলনায় অনেক বেশি সচেতন, আপন অধিকার আদায়ের প্রশ্নে সোচ্চার, বৈষম্য অনাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী। অনেক সংস্থা, সংগঠন নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে, তাদের অধিকার আদায়ের পথ প্রশস্ত ও সহজতর করার জন্য। তারপরও কিন্তু পরিস্থিতির সামগ্রিক ও প্রত্যাশিত উন্নতি হয়নি আজো অবধি। নারীর আপন মর্যাদা, অধিকার, ন্যায্য পাওনা আদায়ের লড়াই চলছে, চলবে। চলতেই থাকবে। আমরা জানি, অধিকার কেউ কাউকে আপনা-আপনি দিয়ে দেয় না। কিংবা আকাশ থেকেও পড়ে না কখনো। তা অর্জন করে নিতে হয়। আমরা আশাবাদী, দৃঢ়সচেতন আত্মপ্রত্যয়ী নারীরা তাদের অধিকার আদায়ে সক্ষম হবেন।

দেশের হাওর অঞ্চলে সম্প্রতি উজানের পাহাড়ি ঢলের কারণে ব্যাপক ফসলহানি হয়েছে। বিপুল ক্ষতি হয়েছে মৎস্যসম্পদেরও। মারাত্মক এই বিপর্যয়ে স্বপ্ন-শান্তি-স্বস্তি স্বাভাবিকতা ধ্বংস হয়েছে লাখো কৃষকের। এই বিপর্যয়ের প্রভাব সুদূরপ্রসারী। এই ঘোর দুর্দিনে বিপন্ন মানুষের পাশে সরকারের পাশাপাশি সাধ্যমতো শক্তি সহায়তা নিয়ে দাঁড়াতে হবে বেসরকারি সংস্থা সংগঠন ব্যক্তিমানুষ আমাদের সকলকে। নিঃস্ব মানুষকে সাধ্যমতো সাহায্য-সহযোগিতা করতে হবে।

জানা যাচ্ছে যে, সুনামগঞ্জ এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের গাফিলতি এবং বাঁধ নির্মাণকারী ঠিকাদারদের দুর্নীতি, ব্যর্থতার কারণে এই বিপর্যয়। কোথাও কোথাও চাষিরাও বাঁধ কেটে দিয়েছিলেন। সেটা তারা করেছিলেন অশিক্ষা, অজ্ঞতার ফলে। তাদেরকে সচেতন করে তোলার প্রশ্নটি এখন জরুরি হয়ে সামনে এসেছে। সরকারের দারিদ্র্যবিমোচন কর্মসূচির সাফল্যের যে স্বপ্ন আমরা দেখি, হাওরাঞ্চলের সাম্প্রতিক এই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও দুর্গতি তার বাস্তবায়ন পিছিয়ে দিল। যারা এই বিপর্যয়ের জন্য দায়ী, আইনের কঠোর বাস্তবায়ন করে তাদের শাস্তি দিতে হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী, ঠিকাদার, যাদের তদারকির দায় দায়িত্ব ছিল তারা, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ সবার ক্ষেত্রেই জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। এটা করা সম্ভব হলে আমরা ভবিষ্যতে এ ধরনের দুঃখজনক বিপর্যয়ের পুনরাবৃত্তি যেমন রোধ করতে পারব, তেমনি আশার আলোও কিছুটা দেখতে পাবো।

- তাসমিমা হোসেন