সোমবার,২৩ অক্টোবর ২০১৭
হোম / অন্দর-বাগান / ঘর সাজাতে শাড়ি
০৫/০২/২০১৭

ঘর সাজাতে শাড়ি

-

স্টাইলের পরিবর্তন, শাড়ির প্রিন্ট বা শাড়ির কাজ বিবর্ণ হোয়ে যাওয়ার কারণে আপনার এক সময়কার শখের মোলায়েম সিল্ক, শীতল কটন বা পিওর শিফন জাতীয় সব অসাধারণ কাপড়ের শাড়িগুলো আর পরা হয়ে ওঠে না। সাধারণত এ ধরনের কাপড়ের দামও অনেক বেশি থাকে, যার কারণে এ শাড়িগুলো একদম ফেলে দেয়াটাও কষ্টকর। সেই সাথে স্মৃতিও বাধ সাধে। তবে অন্য উপায় তো নিশ্চই আছে।

এখন হোল রিসাইকেলের যুগ। সব জিনিসই কোন না কোন অভিনব কায়দায় নতুন করে ব্যাবহার করা যায়। পুরনো শাড়ি নতুন করে ব্যাবহারের একটি চমৎকার ও ক্রিয়েটিভ উপায় হোল ঘর সাজানোতে এর ব্যাবহার যা আপনার ঘরে রঙ, বৈচিত্র্য ও আর্টিস্টিক মাত্রা যোগ করবে। কেমন করে? জেনে নিন।

১। ঘরের সজ্জার সাথে মিল রেখে শাড়ি বেছে নিন এবং একে কাটছাঁট করে পর্দা বানিয়ে ফেলুন। এক্ষেত্রে অবশ্যই দেয়ালের রঙের দিকে খেয়াল রাখতে হবে।

২। শাড়ির কাপড় কিছুটা বড় ও আরামদায়ক হলে তা দিয়ে বিছানার চাদর তৈরি করতে পারেন। দেশি ম্যাটারিয়াল শাড়ির কাপড় ব্যবহার করে সংস্কৃতির ছোঁয়া আনতে পারেন আপনার বেডরুমে।

৩। পুরনো শাড়ি কাজে লাগিয়ে বানিয়ে নিতে পারেন বেড কাভার। এক্ষেত্রে অবশ্যই খেয়াল রাখবেন সূচিকর্মটুকু শৈল্পিকভাবে কাজে লাগাতে। এম্ব্রয়ডারি বা হাতের কাজটুকু মাঝের দিকে রেখে কাভার তৈরি করলে দৃষ্টিনন্দন হবে। এছাড়াও জমকালো পাড় এক রঙের চাদরের চারপাশে জোরা লাগিয়ে বানিয়ে ফেলুন গর্জিয়াস বেডকভার।

৪। বাসায় মেহমান আসলে শুধু একটি কাজ করা শাড়ি খাবার টেবিলে ছড়িয়ে দিন। ঘরের চেহারাতে আসবে পরিবর্তন। তবে খেয়াল রাখতে হবে কাপড়টি যেন কাতান বা জর্জেটের না হয়, বরং কোনো নরম বা সুতি কাপড় হলে এক্ষেত্রে ভালো।

৫। কয়েকটি ভিন্ন রঙের শাড়ি বেছে নিন এবং তাদের মাঝ থেকে রঙ্গিন অংশগুলো কেটে সবগুলো একসাথে সেলাই করে বিভিন্ন সাইজের কুশন কভার বানিয়ে ফেলুন। প্রতিটি রুমের সজ্জা অনুযায়ী তৈরি করে নিন কভারগুলো।

৬। একটি নরম কটন শাড়ি নিয়ে তাকে জানালার ঢালে উইন্ডো শিল্ড হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়াও আপনার বারান্দা কিম্বা জানালায় যদি বাঁশের চিক লাগানো থাকে তবে সেই চিকের চারপাশে লাগিয়ে নিতে পারেন শাড়ির পাড়।

৭। পছন্দের ভারী শাড়িগুলো থেকে আলাদা করে নিন কাজ করা বা লেইস লাগানো পাড়টুকু। ব্যাবহার করুন টেবিল রানার হিসেবে। চারকোণা করে কেটে টেবিলের মাঝে বিছিয়ে দিলেও মানাবে সুন্দর।

৮। একটি সাধারণ সুতির শাড়ি নিন এবং একে কাজে লাগিয়ে ফেলুন রুম ডিভাইডার হিসেবে। একটি বড় রুমের মাঝে পর্দার রড থেকে শাড়ি ঝুলিয়ে দিন। কাজ হয়ে যাবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে যেন কাপড় বেশি জাঁকজমকপূর্ণ না হয়, এতে লোকজনের হাঁটাচলা করার সময় বাঁধা সৃষ্টি হবে।

৯। উৎসব বা কোনো উপলক্ষ্যে পুরনো দামি শাড়ি টেবিল কভার হিসেবে ব্যবহার করুন। এতে উৎসবমুখর পরিবেশে ঘরের জৌলুস বাড়বে।

১০। পুরনো শাড়িগুলো সোফার কাভার হিসেবেও কাজে লাগাতে পারেন।

১১। যদি আপনার বাড়িতে কোনো খালি দেয়াল থাকে তবে তা সাজিয়ে নিন শাড়ি দিয়ে। পুরানো শাড়ি মাপমতো কেটে ঝুলিয়ে নিন দেয়ালে। তৈরি করুন সৃজনশীল দেয়াল ফ্রেম। রুমের অন্য দেয়ালগুলোর সাথে রঙ মিলিয়ে সাজাতে পারেন।

১২। কিছুটা ভিন্ন প্রকৃতির সাজে ঘর সাজাতে ঘরের কিছু জায়গায় হ্যাঙ্গার থেকে ঝুলিয়ে দিন সুদর্শন শাড়ি। দেয়াল আর্টের জন্য এটি খুবই প্রচলিত এবং সুন্দর একটি উপায়।

১৩। আপনি যদি সবকিছুতে রঙের মিল রাখতে চান বা রঙের বাহার দেখতে চান, তাহলে একটি কাজ করা শাড়ি নিন ও রঙ্গিন কয়েকটি সাধারণ শাড়ি নিয়ে কাভার, চাদর ইত্যাদি বানিয়ে ফেলুন।

১৪। শক্ত সুতির শাড়ি দিয়ে বানিয়ে ফেলুন শীতের কুইল্ট কভার।

১৫। দুই বা ততোধিক একই রঙের শাড়ি দিয়ে আপনি সম্পূর্ণরুপে পাল্টাতে পারেন যেকোনো ঘরের লুক। তাছাড়া শাড়ি দিয়ে তৈরি করতে পারেন ফ্লোর ম্যাট, টি কোস্টার বা টেবিল ম্যাট।

- নুসরাত ইসলাম