বুধবার,২৩ অগাস্ট ২০১৭
হোম / স্বাস্থ্য-ফিটনেস / প্রচলিত কিছু ফিটনেস মিথ
০৪/৩০/২০১৭

প্রচলিত কিছু ফিটনেস মিথ

-

বিজ্ঞাপনের মডেল বা বড় পর্দায় নায়কদের সুগঠিত শরীর দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে আপনার মনেও স্থানীয় জিমে যোগ দেয়ার ইচ্ছে জাগতে পারে। কিন্তু এই ফিটনেস বিশ্বে প্রবেশের আগে আপনার এ বিষয়ক কিছু ভ্রান্ত ধারণা সম্পর্কে অবগত হওয়া উচিত। এখানে তার কয়েকটি তুলে ধরা হলো।

‘ফিট থাকতে হলে জিমে যাওয়ার বিকল্প নেই’
ফিট থাকতে হলে জিমে যাওয়ার বিকল্প নেই-এটি প্রচলিত একটি ভ্রান্ত ধারণা। আপনার শরীরের জন্য শ্রমসাধ্য এমন যে কোনো কাজই আসলে স্বাস্থ্যবান হবার জন্য উপযুক্ত। যেমন-সাইক্লিং, জগিং, সাঁতার কাটা, নৃত্য ইত্যাদি। দিনের কিছু সময় কোনো না কোনো অনুশীলনে ব্যস্ত থাকলেই অনেকাংশে ফিট থাকা যাবে। তাই স্বাস্থ্যবান হওয়া এবং জিম করা এই দু’টি বিষয় সমার্থক না ভাবাই উত্তম।

‘নারীরা পুরুষদের মতো পেশিবহুল স্বাস্থ্য বানাতে পারে’
ক্লিনিক্যাল ফিটনেস বিশেষজ্ঞদের মতে নিয়মিত ওয়ার্ক-আউট পেশিকে দৃঢ় এবং সুগঠিত করে। অনেকেই ধারণা করে থাকেন মেয়েরাও ছেলেদের মতো পেশি গঠন করতে পারে। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মেয়েদের শরীরের গড়ন ছেলেদের থেকে আলাদা বলে পেশিবহুল স্বাস্থ্য তৈরি করা অনেকটাই কঠিন হয়ে যায়।

‘দ্রুতই অলৌকিক কিছু ঘটবে’
আপনি টিভিতে যেসব নিখুঁত শরীর দেখে থাকেন, তা রাতারাতি গড়ে ওঠেনি। এর জন্য দরকার ধৈর্য, ডায়েট শৃঙ্খলা এবং কঠোর পরিশ্রম। যেসব ফিটনেস প্রশিক্ষক মাত্র কয়েক সপ্তাহে আপনাকে ভিন্ন কিছুর আশা দেখায়, তাদেরকে পরিহার করাই শ্রেয়।

‘অত্যধিক ঘামলে ধরে নিতে হবে আপনি আনফিট’
বিশেষজ্ঞরা বলে থাকেন যে, ঘাম শরীর থেকে তাপ বের করে শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখে। এটি আপনার শরীরকে ঠান্ডা করে এবং তা খুবই স্বাভাবিক একটি ব্যাপার। এতে ঘাবড়ে যাবার কিছু নেই বা নিজেকে আনফিট মনে করার কিছু নেই।

‘যত বেশি ব্যায়াম করা যায় তত ভালো’
অতিরিক্ত ব্যায়াম কিন্তু মোটেও ভালো অভ্যাস নয়। এর ফলে আপনি গুরুতর অসুস্থতার শিকার হতে পারেন। ব্যায়ামের পরে আপনার পেশির কমপক্ষে ২৪ ঘণ্টা প্রয়োজন হয় তাদের পূর্ববর্তী অবস্থায় ফেরত যেতে। পেশিগুলোকে বিশ্রাম দেয়া বেশ জরুরি, যেন তাদের উপর অতিরিক্ত চাপ না পড়ে। ‘ফিট স্বাস্থ্য গড়ার জন্য একটি আবশ্যক সাপ্লিমেন্ট’ কখনোই অতি দরকারি পুষ্টির অভাব পূরণ করতে পারে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাপ্লিমেন্ট বড়জোর ডায়েটে সংযোজক হিসেবে নেয়া যেতে পারে; কিন্তু কখনোই প্রধান খাদ্য হিসেবে নয়। ভিটামিন, প্রোটিন এবং শর্করা জাতীয় খাদ্য প্রাকৃতিকভাবেই শরীরের জন্য সর্বাধিক কার্যকর।

‘অনুশীলনের পরপরই খাওয়া উচিত নয়’
অনুশীলন-পরবর্তী পুষ্টি গ্রহণ পূর্বের খাবারের মতোই গুরুত্বপূর্ণ। এক্ষেত্রে ডায়েটে প্রোটিন এবং শর্করা রাখুন। গবেষণায় দেখা গেছে যে, অনুশীলন-পরবর্তী খাদ্যগ্রহণ প্রোটিন সংশ্লেষণ, করটিসল শোষণ, গ্লাইকোজেন জমাকরণ, এবং ধকল-পরবর্তী শরীর পুনরুদ্ধারের দ্রুততা বৃদ্ধি করে।

‘খালি পেটে এক্সারসাইজ করা উচিত’
ফিটনেস বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী, অন্যতম প্রচলিত ভুল হচ্ছে ওয়ার্ক-আউট শুরু করার সময় খালি পেটে ব্যায়াম করা। খালি পেটে ব্যায়াম শুরু করলে শরীর ফ্যাট মেটাবোলাইজ করার আগেই ক্লান্তি এসে পড়তে পারে। ভরা পেটেও ব্যায়াম করা উচিত নয়। ওয়ার্ক-আউট শুরুর কমপক্ষে এক ঘণ্টা আগে ভারি কিছু না খাওয়াটাই স্বাস্থ্যকর। বরং হালকা নাস্তা খাওয়া উচিত। ফল বা বিস্কুট জাতীয় খাদ্য ওয়ার্ক-আউট শুরু করার আগে খাবার জন্য বেশ উত্তম।

- আলভী