সোমবার,২৩ অক্টোবর ২০১৭
হোম / ভ্রমণ / নেপালের আশপাশে
০৪/৩০/২০১৭

নেপালের আশপাশে

-

নেপালের নাম শোনেনি এমন ভ্রমণপিপাসু দুর্লভ। নেপাল পৃথিবীর সর্বোচ্চ চূড়া মাউন্ট এভারেস্টের দেশ এবং তার মনোমুগ্ধকর অন্নপূর্ণা ট্রেকিং রেঞ্জ পর্বতপ্রেমীদের মাঝে বিশ্বখ্যাত। তবে এছাড়াও নেপালে রয়েছে আরও অনেক টুরিস্ট হটস্পট। টুরিস্ট নির্ভর অর্থনীতি হওয়ার ফলে নেপালে ভ্রমণ বেশ সহজ এবং সাশ্রয়ী। পরিবার কিংবা বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য নেপালকে আপনার পরবর্তী গন্তব্য হিসেবে নিতে পারেন।

আপার মাস্টাং
নেপাল-চীন সীমান্তে, অন্নপূর্ণা রেঞ্জের উত্তরে প্রায় ৪,০০০ ফিট উঁচুতে অবস্থিত আপার মাস্টাং। ঐতিহাসিক এবং সাংস্কৃতিকভাবে মাস্টাং তিব্বতের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। এই অঞ্চলে এখনও মানুষ তিব্বতি ভাষায় কথা বলে থাকে এবং আশপাশে ছড়িয়ে আছে বহু ঐতিহাসিক স্থাপত্যশিল্পের নানা নিদর্শন। ভ্যালির উঁচু স্থানগুলোতে পাহাড়ের গায়ে নানা রঙের পাথর তৈরি হয়েছে এবং ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে অজস্র গুহা। গুহার ভেতরে গাইড নিয়ে ঘুরে দেখা যায়। তাছাড়া অজস্র পাহাড়ের মনভোলানো দৃশ্য সবসময় তো আছেই। মাস্টাং নেপালের একটি দুর্লভ ট্রেকিং ডেস্টিনেশান, কেননা বর্ষার দিনেও এখানে পাহাড়ে ওঠা যায়। পাহাড়গুলোকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে অনেক জনবসতি যারা এখনও জীবনযাপন করে সহজ-সরল আদিম বেশে। তাদের অনন্য জীবনযাপনও টুরিস্টদের কাছে বেশ আকর্ষণীয়।

পোখারা
নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত পোখারা শহর। নেপালের পশ্চিমে মূল শহর হচ্ছে পোখারা। অন্নপূর্ণা রেঞ্জ থেকে বেশ কাছে হওয়াতে পোখারাকে পর্বত আরোহীদের মূল গ্রাউন্ড হিসেবে বিবেচনা করা হয়। পোখারা শহরের কাছেই আছে প্যারাগ্লাইডিং স্পট। বিশ্বের অন্নতম প্যারাগ্লাইডিং গন্তব্য পোখারাকেই বলা হয়। কেননা পাহাড় এবং স্বচ্ছ পানির নদী এক হয়ে মিশে আছে এখানে। এছাড়াও ঐতিহাসিক বেশ কিছু স্থান রয়েছে এখানে। বিশ্বখ্যাত গুর্খা বাহিনীর একটি মিউজিয়ামও আছে পোখারাতে।

চিতোয়ান জাতীয় উদ্যান
নেপালের সর্বপ্রথম জাতীয় উদ্যান চিতোয়ান বন। নেপালের মোটামোটি মাঝখানে অবস্থিত উদ্যানটি প্রায় ৯৩২ বর্গ কি.মি এলাকা জুড়ে অবস্থিত এবং এর মধ্যে আছে অজস্র প্রাণীর অভয়ারণ্য। হিমালয়ের পাদদেশে উদ্যানটির স্থান হওয়ায় প্রাকৃতিকভাবে অজস্র জলাশয় এবং সবুজ বৃক্ষের জন্মস্থান এই চিতোয়ান জাতীয় উদ্যান। এক শিং বিশিষ্ট এশিয়ান গন্ডার শুধুমাত্র এই উদ্যানেই রয়েছে এবং আছে কিছু বেঙ্গল বাঘ। টুরিস্টরা উদ্যানের ভেতরেই থাকা খাওয়ার সুবিধা পাবে এবং উপভোগ করতে পারবে চিতোয়ানের অপার্থিব সৌন্দর্য। ৬৮টি স্তন্যপায়ী, ৫৪৪ প্রজাতির পাখি এবং প্রায় ১২৬ প্রকারের মাছ বসবাস করে এই উদ্যানে।

ভক্তপুর
কাঠমান্ডু থেকে ২০ কি.মি দূরে অবস্থিত ভক্তপুর বৌদ্ধদের তীর্থস্থান। এটি একটি ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ এবং নেপালের অন্যতম জনপ্রিয় টুরিস্ট স্পট। মনোমুগ্ধকর মন্দির, টেরাকোটা ছাদের বাসাবাড়ি এবং অজস্র সবুজ মাঠ মিলিয়ে ভক্তপুর একটি অসাধারণ সুন্দর গন্তব্য। নেপালের ভয়ানক ভূমিকম্পে এই এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়, তবে নেপাল সরকার এই অঞ্চলকে আগের মতো গড়ে তুলেছে বেশ তাড়াতাড়ি। ভক্তপুরের সঙ্গে সংযোগ আছে ভারত ও তিব্বতের এবং রাস্তাঘাট গিয়েছে পর্বতের মাঝ দিয়ে। পুরো এলাকা থেকেই মাথার উপরে দেখা যায় হিমালয়ের প্রকান্ড মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। নেপালিদের কাছে ভক্তপুর অত্যন্ত সম্মানিত এবং ঐতিহাসিক একটি স্থান এবং টুরিস্টদের অন্যতম একটি পছন্দের গন্তব্য।

- কাজী মাহদী