শুক্রবার,২৪ নভেম্বর ২০১৭
হোম / স্বাস্থ্য-ফিটনেস / ঘরেই করুন হেঁচকির সমাধান
০৪/২৫/২০১৭

ঘরেই করুন হেঁচকির সমাধান

-

হেঁচকি মূলত সিনক্রোনাস ডায়াফ্রাগমেটিক ফ্লাটার (এসডিএফ) যা হলো শ্বাসনালীর ডায়াফ্রামের অনিয়ন্ত্রিত ক্রমাগত সংকোচন যেটা মিনিটে একাধিকবার ঘটতে পারে। যখনি ডায়াফ্রামের সংকোচন ঘটে, এটা আপনাকে খুব দ্রুত শ্বাস গ্রহণ করতে বাধ্য করে যেটা স্বরতন্ত্রীকে বন্ধ করে দেয় এবং তারই ফলাফল হেঁচকির শব্দ।

হেঁচকি একবার হয়েও থেমে যেতে পারে আবার দফায় দফায়ও হতে পারে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দফায় দফায় হেঁচকি সাধারণত কয়েক মিনিট স্থায়ী হয়। কদাচিৎ এগুলো ঘণ্টাব্যপী স্থায়ী হতে দেখা যায়। সাধারণত শব্দই হেঁচকির একমাত্র লক্ষণ তবে ক্ষেত্রবিশেষে কেউ কেউ বুকে বা তলপেটে কিঞ্চিৎ টান ধরা অনুভব করতে পারেন।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই হেঁচকি হয় কার্বোনেটেড পানীয় অথবা অতিরিক্ত এলকোহোলিক পানীয় গ্রহণ, অতিরিক্ত খাওয়া, তাড়াতাড়ি করে খাওয়া, অতিরিক্ত মশলাদার খাবার খাওয়া, কিছু ধরনের উত্তেজনা বা মানসিক চাপে থাকা, ধূমপান, হঠাৎ কক্ষ তাপমাত্রার পরিবর্তন এবং কোনো কিছু চাবানো অথবা খাওয়ার সময় বাতাস গলাধঃকরণ করার কারণে।

দীর্ঘক্ষণ ধরে চলা হেঁচকির কারণে যেমনটা ঘটতে পারে নানাধরনের মেটাবলিক ডিসঅর্ডার বা স্নায়ুতন্ত্রের সমস্যা তেমনি আপনি হতে পারেন মানুষের সামনে বিরক্তি বা বিব্রতবোধের কারণ। সাধারণত বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই দফায় দফায় হেঁচকি কোনো চিকিৎসা ছাড়াই ভাল হয়ে যায়। তবে ঘরে বসেই করা যায় এমন কিছু প্রতিকারও আছে এ সমস্যার।

ঠান্ডা পানি খাওয়া
হেঁচকি থামানোর জন্যে একে ঠান্ডা পানির একটা ধাক্কা দিতে পারেন। তাড়াতাড়ি করে এক গ্লাস ঠান্ডা পানিতে মধু মিশিয়ে গিলে ফেলুন, দেখবেন নিমেষেই হেঁচকি দূর হয়ে যাবে। ঠান্ডা পানি দিয়ে মিনিটখানেক গড়গড়া করলেও উপকার পেতে পারেন। এছাড়াও ছোট একটি বরফের টুকরা কয়েক সেকেন্ড ধরে চুষতে পারেন।

মাথা নীচে করে পানি খাওয়া
কোমর থেকে শরীর বাঁকা করে মাথা নিচের দিকে রাখুন। এরপর সাধারণত গ্লাসের যেদিক দিয়ে পানি খান তার উল্টোদিক দিয়ে পানি গলাধঃকরণের চেষ্টা করুন। প্রয়োজনে একাধিকাবার এভাবে পানি খান।

নিশ্বাস ধরে রাখুন
হেঁচকির সময় নিশ্বাস চেপে রাখা বহু পুরনো টোটকা। এ সময় রক্তে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে গিয়ে মনকে অন্যদিকে বিচ্যুত করে, যা হিক্কা বন্ধের অন্যতম কারণ। এ ক্ষেত্রে একবারে শ্বাস নিয়ে যতক্ষণ পারেন চেপে ধরে রাখুন অতঃপর আস্তে আস্তে নাক দিয়ে ছেড়ে দিন। এভাবে বেশ কয়েকবার করুন।

চিনি
এক চা চামচ সাদা অথবা বাদামি চিনি নিয়ে তা মুখে দিয়ে কয়েক সেকেন্ড ধরে রাখুন। না চাবিয়ে, শুধু লালার সঙ্গে মিশে চিনিকে গলতে দিন। অতঃপর এক চুমুক পানি খেয়ে তা গলাধঃকরণ করে নিন।

ভিনেগার
অল্প পরিমাণ পানিতে ভিনেগার মিশিয়ে আস্তে আস্তে গিলে ফেলুন। অথবা একগ্লাস পানি খাওয়ার পর ১-২ চা চামচ ভিনেগার খেয়ে নিন। উপকার পাবেন।

কাগজের ঠোঙা
মুখের চারপাশে একটা কাগজের ঠোঙা ভালো করে চেপে ধরে আস্তে আস্তে নিশ্বাস নিন এবং ছাড়ুন। এভাবে করে কয়েক মিনিট করুন।

লেবু
পানি ছাড়া ১/২ চা চামচ শুধু লেবুর রস মুখে নিয়ে খেয়ে ফেলুন, এছাড়াও অল্প পরিমাণ পানিতে মিশিয়েও এটি একবারে গিলে ফেলতে পারেন। হেঁচকি ভালো হয়ে যাবে।

এলাচ
১ চা চামচ এলাচগুঁড়া এক গ্লাস গরম পানিতে মিশিয়ে ঠান্ডা করে, ছাঁকনি দিয়ে ছেঁকে আস্তে আস্তে খেয়ে ফেলুন। এতেও কাজ হবে।

পিনাট বাটার
পিনাট বাটারকে যখনি গিলতে যাবেন এর আঠালো, চটচটে ধর্ম আপনার শ্বাসপ্রশ্বাসে ব্যাঘাত ঘটাবে যেটা ক্রমাগত হেঁচকি ঠেকানোতে বেশ কাজ করে। এক চা চামচ পিনাট বাটার মুখে নিয়ে কিছুক্ষণ ধরে রেখে চাবানো ছাড়াই একে গিলে ফেলুন। প্রয়োজনবোধে সঙ্গে এক গ্লাস পানিও খেতে পারেন।

- রিজবানুল হাসান