সোমবার,২৩ অক্টোবর ২০১৭
হোম / বিবিধ / ‘অটিজম বিষয়ক চ্যাম্পিয়ন’ সায়মা ওয়াজেদ
০৪/২৫/২০১৭

‘অটিজম বিষয়ক চ্যাম্পিয়ন’ সায়মা ওয়াজেদ

-

গত ২ এপ্রিল বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবসের ঠিক আগের দিন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের ‘অটিজম বিষয়ক চ্যাম্পিয়ন’ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন সায়মা ওয়াজেদ হোসেন। অটিজম বিষয়ক বাংলাদেশের জাতীয় উপদেষ্টা পরিষদের সভাপতি সায়মা ওয়াজেদের এই অর্জন অটিজম বিষয়ে বাংলাদেশের কার্যক্রম বিশ্বদরবারে তুলে ধরার পাশাপাশি এই বিষয়টি নিয়ে বিদ্যমান ভুল ধারণা, দুর্ভোগ এবং সচেতনতার জায়গাগুলোর প্রতি আরও একবার দৃষ্টিপাত করেছে।

অটিজম বা অটিস্টিক শব্দটার সঙ্গে শিক্ষিত সমাজের সবারই কমবেশি পরিচিতি আছে। তবে শহরের সীমানা ছাড়িয়ে গ্রামের দিকে যেতে থাকলে অটিজম নামের রোগটা অদ্ভুতভাবে ভূতের আছর কিংবা পাগলামিসহ নানা ভ্রান্ত ধারণার সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা হয়। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে তাই অটিজম নিয়ে কাজ করা উচিত ছিল এবং তা করেই এবার ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন (ডাব্লিউএইচও)-এর চোখে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার চ্যাম্পিয়নের স্বীকৃতি পেলেন সায়মা ওয়াজেদ। এই অনন্যকীর্তির গৌরবময় হকদার সায়মা ওয়াজেদের আরো একটি পরিচয় তিনি দেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে।

বাংলাদেশ অটিজম বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে অনেকদিন ধরেই কাজ করছেন সায়মা ওয়াজেদ। সায়মাকে এই অভিধা এবং একই সঙ্গে গুরুদায়িত্ব দেয়ার সম্পর্কে হু-এর আঞ্চলিক পরিচালক পুনম ক্ষেত্রাল সিং বলেন, “সায়মা ওয়াজেদের আপ্রাণ প্রচেষ্টার মাধ্যমে বাংলাদেশে অটিজম বিষয়ে ব্যাপক সচতনতা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডারসহ অন্যান্য মানসিক রোগের ব্যাপারে নিজ দেশবাসীকে সচেতন করার পাশাপাশি বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছেন।”

এই অভিধা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অটিজম বিষয়ে কাজের পরিধিও বেড়ে গেল প্রধানমন্ত্রী কন্যা সায়মা ওয়াজেদের। এখন থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ১১টি দেশে অটিজম মোকাবেলা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য পরামর্শক হিসেবে কাজ করবেন তিনি। একই সঙ্গে এই অটিজম নিয়ে চলমান গবেষণায় গুরুত্বারোপ, আক্রান্ত শিশুর পরিচর্যা এবং অভিভাবকদের ভোগান্তি কমানোর লক্ষ্যে নানা পদক্ষেপ গ্রহণের পথে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন তিনি।

তবে এ-ধরনের কার্যক্রমে এর আগেও সরব উপস্থিতি ছিল তার। বাংলাদেশে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত সূচনা ফাউন্ডেশনের সভাপতি হিসেবে অনেকদিন ধরে কাজ করছেন সায়মা ওয়াজেদ। ইতোপূর্বে তার নিরলস প্রচেষ্টার ফলেই ২০১১ সালে ঢাকায় প্রথমবারের মতো অটিজমবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি নিয়ে সায়মা ওয়াজেদের এই পথচলার মাধ্যমে অটিজমে আক্রান্ত্র দেশের হাজারো শিশুর মুখে হাসি ফুটবে এই কামনা করাই যায়।

- নাসিফ রাফসান