বুধবার,১৬ অগাস্ট ২০১৭
হোম / জীবনযাপন / সিবলিং রাইভালরি বা সহোদরের দ্বন্দ্ব
০৪/২৫/২০১৭

সিবলিং রাইভালরি বা সহোদরের দ্বন্দ্ব

-

পরিবারে এক-এর বেশী সন্তান থাকলে ‘সিবলিং রাইভালরি’ সামলানো বাবা-মা'র জন্য বেশ একটি কমন এবং নিয়মিত দায়িত্বের মধ্যে পরে যায়। ছোটখাট ঝগড়াঝাঁটি তো একসাথে থাকতে গেলে হবেই। প্যারেন্ট হিসেবে খয়াল রাখতে হবে তা যেন মাত্রা ছাড়িয়ে না যায়। কেননা এই সংঘাত শিশুর মানসিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এই ধরনের সংঘাতের শুরু হয় একে অন্যকে বিভিন্ন নামে ডাকা, মতের অমিল অথবা চারিত্রিক পার্থক্য থেকে।

শিশুবিদদের মতে দুই সন্তানের মধ্যে সুন্দর সম্পর্ক থাকার জন্য তাদের ন্যূনতম ৩ বছরের ব্যবধান থাকা উচিত। এতে করে বড় সন্তান কিছুটা হলেও দ্বায়িত্ব নিতে শিখে যায়। ফলে তাদের লালনপালন করতেও সুবিধা হয়।

ভাইবোনদের মাঝে ঝগড়া বা মতের অমিল হলে আপনি দুজনের কাছে ঘটনার দুই রকম ব্যাখ্যা শুনতে পাবেন। দুটি ব্যাখ্যাই সমান গুরুত্ব দিয়ে শুনুন। ‘বাবা-মা আমাকে কম ভালোবাসে’-এ ধরনের নেতিবাচক চিন্তা যেন সন্তানদের মাঝে তৈরি না হয়।

পরস্পরকে সম্মান করতে শেখান। তারা যেন একে অন্যকে বাজে নামে না ডাকে অথবা অপমানজনক ব্যবহার না করে।

সন্তানদের মাঝে সৌহার্দ্য তৈরি করুন। জন্মদিনের উপহার একজনকে অপরজনের হাত দিয়ে দেয়ান। তারা যেন একে অন্যের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করে, সেদিকে লক্ষ্য রাখুন।

শিশুরা আপনাকে দেখেই শিখবে। সুতরাং পরিবারের সবার সঙ্গে সুন্দর আচরণ করুন। নিজের রাগ নিয়ন্ত্রণে রাখুন, মাথা ঠান্ডা রেখে সমাধান করার চেষ্টা করুন। তাহলে শিশুরাও পরবর্তীসময় নিজেদের মাঝে সমস্যা তৈরি হলে তা নিয়ে ঝগড়া বা চেঁচামেচি না করে সমাধান করতে আগ্রহী হবে।

অনেক বাবা-মা মনে করেন বাচ্চাদের সমস্যা তাদের নিজেদেরকেই সমাধান করতে দেয়া উচিত; কিন্তু এই ধারণা ঠিক নয়। তাদের সমস্যায় নিজেরা অংশগ্রহণ করুন যেন তা বাড়াবাড়ি পর্যায়ে না চলে যায়।

কখনও এক সন্তানকে অন্য সন্তানের কাজের জন্য দোষারোপ করবেন না। তা হলে তাদের নিজ সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

সন্তানদের মাঝে কোনো প্রতিযোগিতা তৈরি করবেন না। পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে তাদের মাঝে কখনোই কোনো তুলনা করবেন না। পরিবার কোনো প্রতিযোগিতার জায়গা নয়। পরস্পরের প্রতি সহযোগিতা পারিবারিক জীবনকে সুন্দর করে তোলে।

আপনার বড় সন্তানকে নিয়ে তার ছোট ভাই বা বোনের জন্য কেনাকাটা করতে যান। সে তার ছোট ভাইয়ের জন্য কী কিনতে চায় তা কিনে দিন, এতে করে তার মধ্যে ছোট ভাই বা বোনের জন্য দায়িত্ববোধ জন্ম নিবে। ফলশ্রুতিতে সে একজন অভিভাবকেও পরিণত হবে।

আপনার সন্তানদের তাদের মত চিন্তা করতে দিন, কখনও তাদেরকে একই রকম অথবা একজনকে অপরজনের মতো চিন্তা করতে বলবেন না।

বাবা-মায়ের দায়িত্ব হচ্ছে, যে বয়স থেকে বাচ্চারা কথা বুঝতে পারে, সেই সময় থেকেই তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া। এর প্রথম ধাপই হল, নিজের কাজ নিজে করা। সুতরাং তাদেরকে আত্মবিশ্বাসী করে গড়ে তুলুন, কারণ আত্মবিশ্বাসী মানুষ কখনোই নিজের হিংসা-বিদ্বেষকে বাড়তে দেয় না। বাচ্চার মনে ছোটবেলা থেকেই গেঁথে দিন, পরিবারের কাজে সাহায্য করা সবার দায়িত্ব।

সবাই ভিন্ন এবং সবারই কিছু ইতিবাচক অবদান রয়েছে, সন্তানদের তা জানতে সাহায্য করুন।

সর্বোপরি, নিজের সন্তানদের মাঝে ভেদাভেদ সৃষ্টি, তাদেরকে পরস্পর থেকে দূরে সরিয়ে নেয়। আপনার দৃষ্টিভঙ্গিই একটি সুন্দর পরিবারের জন্ম দিতে পারে।

- সাদ জিয়াউল হাসান
ছবিঃ আকিব আব্দুল্লাহ
মডেলঃ জারা ও জাইমা