রবিবার,২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭
হোম / সম্পাদকীয় / অভিনন্দন সাহসী কিশোরী শারমিন
০৪/২২/২০১৭

অভিনন্দন সাহসী কিশোরী শারমিন

-

নারীরা এগিয়ে চলেছেন। সামনে শতেক বাধা, প্রতিকূলতা, ভ্রূকুটি সহিংসতা, শোষণ বৈষম্য সব অন্তরায় মোকাবেলা করেই। এই চিত্র বিশ্বব্যাপী, বাংলাদেশেও। গর্বে আমাদের বুক ভরে ওঠে, যখন শুনি বাংলাদেশের ১৫ বছরের কিশোরী শারমিন আক্তার রুখে দাঁড়ায় বাল্যবিবাহের অভিসম্পাতকে। তার লড়াই শেষ পর্যন্ত জয়যুক্ত হয়। অদম্য সাহসী, প্রতিবাদী এই কিশোরীকে হবু স্বামী এমনকি নিজের মায়ের বিরুদ্ধে পর্যন্ত দাঁড়াতে হয়েছে। নিতে হয়েছে আইনি সহায়তা। বাল্যবিবাহ দেয়ার জন্য মা ওকে শারীরিক নির্যাতন পর্যন্ত করেছিল। শারমিনের সাহসিকতা স্বীকৃতি পেয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ‘সাহসী নারীর’ সম্মাননা অর্জন করতে পেরেছে ঝালকাঠির এই মেয়েটি।

মার্কিন ফার্স্টলেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের হাত থেকে সে নিয়েছে সম্মাননার স্বীকৃতি। এই স্বীকৃতির নাম ‘ইন্টারন্যাশনাল উইমেন অব কারেজ’। ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস বলেছে, “মাত্র ১৫ বছর বয়সে বিবাহ দেওয়ার ব্যাপারে তার পরিবারের চেষ্টার বিরুদ্ধে সাহসিকতার সঙ্গে রুখে দাঁড়ান শারমিন আক্তার। অব্যাহত রাখেন লেখাপড়া। যা শারমিনের মতো একইরকম চাপের সম্মুখীন দক্ষিণ এশিয়ার কিশোরী মেয়েদের জন্য একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।”

দৃঢ়প্রত্যয়ী শারমিন বলেছে, আমি পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চাই। আইনজীবী হওয়ার ইচ্ছে আছে। আর বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে প্রচার-প্রচারণা এবং সচেতনতা বাড়ানোর জন্য কাজ করতে চাই।

আমরা শারমিন আক্তারকে অভিনন্দন জানাই। তার স্বপ্ন পূরণ হোক, এই কামনা করি। অন্য কোনো শারমিনকে যেন এ ধরনের লড়াইয়ে ব্যাপৃত হতে না হয়। সেইসঙ্গে এমন প্রত্যাশাও লালন করি যে, বাংলাদেশের কোনো বাবা-মাকে যেন বাল্যবিবাহের মত অভিশাপের সঙ্গে নিজেদের জড়াতে না হয়। আমরা চাই মানসিকতার পরিবর্তন। কন্যাশিশুর প্রতি কোনো বৈষম্য নিপীড়ন অবহেলা আমরা দেখতে চাই না। পুরুষতান্ত্রিকতার বিষ সমাজদেহে আজো ক্যানসার ছড়িয়ে দিচ্ছে, সেই পরিস্থিতির অবসান আমরা দেখতে চাই।

- তাসমিমা হোসেন