রবিবার,২০ অগাস্ট ২০১৭
হোম / বিবিধ / আজকের নারী লোকোমোটিভে
০৪/১৮/২০১৭

আজকের নারী লোকোমোটিভে

-

বর্তমান যুগের নারীরা অফিসে-বাসায় সর্বক্ষেত্রেই সমান পারদর্শী। বলা যায়, তারা আর পিছিয়ে নেই। যেসব কর্মক্ষেত্র একসময় শুধু পুরুষদের হাতের মুঠোয় ছিল, সেসব জায়গাতেও আজ নারীরা পুরুষদের পাশাপাশি কাজ করছেন। ট্রেন চালানোর কাজটি প্রায় একযুগ আগে শুরু করেছিলেন একজন নারী। এই কাজটিতে নারীদের আগ্রহ বৃদ্ধির ফলে সে-সংখ্যাটি বর্তমানে পৌঁছে গেছে ১৫-তে। এই বছরে আরো কয়েকজন নারী এ-কাজটিতে যুক্ত হবেন বলে জানিয়েছে রেলসূত্র।

নারী ট্রেন চালকের কর্মক্ষেত্রে যোগদান করার ঘটনা রেলের দীর্ঘ ইতিহাসে খুব বেশি দিনের নয়। এশিয়ার প্রথম নারী ট্রেন চালক হিসেবে যোগদান করেছিলেন ভারতের মুমতাজ, ১৯৮৯ সালে। সালমা খাতুন বাংলাদেশ রেলওয়েতে প্রথম নারী ট্রেন চালক হিসেবে যুক্ত হন এর ২৫ বছর পর। এই দৃষ্টান্তে অনুপ্রাণিত হয়ে ২০১১-২০১৪ সালে আরও ১৪ জন রেলে যোগদান করেন।

সালমা খাতুন টাঙ্গাইলের মেয়ে, বাংলা সাহিত্যে এমএ পড়েছেন। তিনি রেলওয়েতে যোগদান করেন ২০০৪ সালের ৮ই মার্চ। প্রথমদিন ট্রেনে ওঠার অনুভূতি
সম্পর্কে তিনি বলেন, দুই বছর বিভিন্ন জায়গায় ট্রেনিং শেষে ২০০৬ সালের ১৮ই ফেব্রুয়ারি প্রথম ট্রেন চালান। রুট ছিল লাকসাম-নোয়াখালী। ট্রেন চালাতে গিয়ে তিনি অনেক সময় নানারকম অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন। ২০০৬ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি নোয়াখালীতে রাত আটটা বেজে যায়। তখন ট্রেনে নারী চালক রয়েছেন বলে জানাজানি হয়, সোনাইমুড়ী স্টেশনে ভিড় করে লোকজন। ট্রেন থামিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলতে হয় তাকে। পরে পরিস্থিতি শান্ত হয়। এমন অনেক প্রতিকূল ঘটনার মুখোমুখি হয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন আজকের নারী লোকোমোটিভ চালকরা।

নারীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, যে দেশের প্রধানমন্ত্রী নারী, স্পিকার নারী, সে দেশের নারীদের কে কি বলল কান না দিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া উচিত। সালমা খাতুন মনে করেন, রেলে মেয়েদের অংশগ্রহণ ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং ভবিষ্যতে আরও বাড়বে। তিনি অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে এই চ্যালেঞ্জিং পেশায় কাজ করছেন। তবে ট্রেন চালানোর সময় সিগন্যাল ম্যানেজমেন্টের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হয় বলে তিনি জানিয়েছেন।

নরসিংদীর মেয়ে সালমা বেগম উচ্চমাধ্যমিক পাস করে এএলএম হিসেবে রেলে যোগ দেন। সম্প্রতি তিনি পদোন্নতি পেয়েছেন। তিনি বলেন, প্রথম দিকে ভয় ছিল। এখন আর কোনো ভয় কাজ করে না।

নড়াইলের লোহাগড়ার মেয়ে কৃষ্ণ ২০১১ সালের ২২ সেপ্টেম্বর রেলে যোগদান করেন। চট্টগ্রাম কলেজ থেকে অনার্স মাস্টার্স করে এ পেশায় এলেন কেন, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ট্রেন চালকরা যদি শিক্ষিত হন, তাহলে এ পেশার প্রতি মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টে যাবে।

ইডেন কলেজ থেকে গণিত বিষয়ে প্রথম শ্রেণির ডিগ্রি নিয়ে ২০১১ সালের ৪ সেপ্টেম্বর চাঁদপুরের মেয়ে কুলসুম আক্তার যোগ দেন সহকারী লোকোমাস্টার পদে। এ পেশায় এসেছেন মা-বাবার উৎসাহ ও প্রেরণায়। তিনি বলেন, মেয়ে হয়ে এই পেশায় এসেছি, এ নিয়ে গর্ববোধ করি।

কুমিল্লার মেয়ে রেহানা আবেদিন। তার নানা ছিলেন রেলের লোকোমাস্টার। বাবাও রেলের কর্মকর্তা। উচ্চমাধ্যমিক পাস করে তিনিও চলে আসেন এ-পেশায়। তার মতে, ট্রেনের চালক হিসেবে মেয়েদের নিয়ে মানুষের অনেক আগ্রহ।

দিনাজপুরের পার্বতীপুরের মেয়ে নাছরিন আক্তার। ডিগ্রি পাস করে রেলওয়েতে যোগ দিয়েছেন। এখন ডেমো ট্রেনের সহকারী হিসাবে কাজ করছেন। ট্রেন চালানো দারুণ উপভোগ করেন।

নাছরিন আক্তারের সঙ্গে একই সঙ্গে চাকরিতে যোগ দেন চট্টগ্রামের মেয়ে উম্মে সালমা সিদ্দিকী। পূর্বাঞ্চলের রেলওয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, পুরুষের পাশাপাশি সব ধরনের কাজ শিখলেও এখনো দূরের রাস্তায় নানা কারণেই আমরা মেয়েদের পাঠাতে পারছি না। তাঁরা সেটিও পারবেন, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। তিনি আরও বলেন, মেয়েদের যেমন এই পেশার চ্যালেঞ্জটা নিতে হবে, তেমনি সমাজের সবাইকে এঁদের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করতে হবে।

- মীম