সোমবার,২৩ অক্টোবর ২০১৭
হোম / বিনোদন / তারকাদের বর্ষবরণ
০৪/১১/২০১৭

তারকাদের বর্ষবরণ

-

বসন্তের মৃদুমন্দ বাতাস ধীরে ধীরে কমছে। গরমের ‘লু-হাওয়ার’ দাপটও দিনকে দিন বাড়ার পথে। গরমের এই তীব্রতা নিয়েই হাজির হয়েছে এপ্রিল মাস। আর এই মাসের ১৪ তারিখেই বাঙালির প্রাণের উৎসব ‘পহেলা বৈশাখ’। প্রচন্ড তাপদাহ, হাজারো জনতার ভিড় উপেক্ষা করে মানুষের ঢল নামে ঢাকার রাস্তায় নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে। প্রাণের উৎসবের এই দিনে ‘বৈশাখি-আমেজের’ হাওয়া লাগে তারকাদের মনেও।

ফেরদৌস আহমেদ
তার যাত্রা শুরু মডেল হিসেবে। ১৯৯৮ সালে খ্যাতিমান চলচ্চিত্রকার বাসু চ্যাটার্জি পরিচালিত ‘হঠাৎ বৃষ্টি’ ছবিতে অভিনয় করে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন এই অভিনেতা। আর সেই থেকে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় মুখ হিসেবে পরিচিত ফেরদৌস আহমেদ।

ফেরদৌস জানান, এবারের পহেলা বৈশাখ তিনি কাটাবেন পরিবারের সঙ্গেই। “এদিন কোনো শুটিং রাখি না সাধারণত। পরিবারের সবাইকে নিয়ে সকালে ক্যান্টনমেন্ট গলফ ক্লাবে যাবো। এরপর চ্যানেল আই-এর বৈশাখি মেলায় যাওয়ার ইচ্ছে আছে। রাতে বন্ধুদের সঙ্গে ডিনার করেই দিনটা শেষ হবে।” এমনটাই বলেন ওই তারকা।

বৈশাখের এই দিনে ফেরদৌসের পছন্দ লাল-সাদা পাঞ্জাবি। "তারকা" জীবন শুরু হবার আগের সময়গুলোতে পহেলা বৈশাখের দিনটা কাটতো বন্ধুদের সঙ্গে ঘোরাঘুরি করেই, “কলেজ জীবনে পহেলা বৈশাখ মানেই ছিল বন্ধুদের সঙ্গে ঘোরাঘুরি। বিকেলে কনসার্টে না গেলে অপূর্ণতা থেকে যেতো!”

এখন আর সেভাবে ঘোরাঘুরি করার সুযোগ না মিললেও দিনটি উপভোগে কোনো কমতি রাখেন না এই অভিনেতা।

তমালিকা কর্মকার
রাঢ়াঙ নাটকের "শ্যামলী", ময়ূর সিংহাসন-এর "কৃষ্ণা" এবং বিদ্যাসাগর-এর "রাধা" চরিত্রগুলোর জন্য তিনি বিশেষ ভাবে পরিচিত। মঞ্চ, টেলিভিশন, চলচ্চিত্রে সমানভাবে পদচারণা থাকলেও বর্তমানে মঞ্চের কাজ নিয়েই ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন তমালিকা কর্মকার।

তমালিকার কাছে পহেলা বৈশাখের সবচেয়ে আনন্দের মুহূর্ত হচ্ছে মায়ের সঙ্গে দেখা করা। “বৈশাখের প্রথম দিনটা "স্টোরি হোমসেই" কাটে। এবার চ্যানেল আই-এর মেলায় যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। তবে আমার কাছে দিনের সবচেয়ে সুন্দর মুহূর্ত হচ্ছে মায়ের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়া। এমনিতে শাড়ি খুব একটা পরা হয় না। তবে আমার মা আমাকে শাড়ি পরা অবস্থায় দেখতে খুব ভালোবাসে। এজন্য সেদিন শাড়ি পরা হয়।”

ছাত্রজীবনে এই দিনটি আরও অনেক বেশি রঙিন ছিল বলেই জানান তমালিকা, “ওই সময় তো প্রচুর ঘুরতাম বন্ধুদের সঙ্গে। বটতলাতে গান গাইতে যেতাম, আর্ট কলেজে যাওয়া হতো প্রতিবারই। এখন তো জ্যামটা খুব বেশি। সময়ও পাই কম। তাই ওদিকে খুব বেশি যাওয়া হয় না। কিন্তু ওই দিনগুলো খুব মনে পড়ে।”

রিয়াজ
বাংলাদেশের চলচ্চিত্র জগতে রিয়াজ এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। "দুই দুয়ারী", "শ্বশুরবাড়ি জিন্দাবাদ"-এর মতো অসংখ্য সুপারহিট সিনেমায় কাজ করে এই অভিনেতা জয় করেছেন কোটি দর্শকের হৃদয়।

রিয়াজ পহেলা বৈশাখ কাটাবেন পরিবারের সঙ্গেই। তিনি বলেন, “এইদিন শুটিং না রাখার চেষ্টা করি। আর তাই কিছুটা সময় পাই নিজের মতো করে কাটাবার জন্য। সেই সময়টুকু পরিবারের জন্যই বরাদ্দ রাখি। পাঞ্জাবিটা সাধারণত আমার স্ত্রী পছন্দ করে দেয় আর সেটাই পরা হয়। মাঝে মাঝে কিছু অনুষ্ঠানে যাওয়ার চেষ্টা করি যদিও সব সময় হয়ে উঠে না।”

বন্ধুদের সাথে ঘোরাঘুরিটা মিস করেন বলেই জানালেন রিয়াজ। “একটা সময় টিএসসি, রমনাতে সারাদিন ঘুরতাম। কিন্তু রমনায় বোমা হামলার পর সেদিকে আর যাওয়া হয় না। ব্যস্ত হয়ে যাওয়ায় ঘোরাঘুরিটাও অনেক কমে গিয়েছে আগের তুলনায়। ওই মজাগুলো এখন আর নেই।”

মাসুমা রহমান নাবিলা
উপস্থাপনা দিয়ে মিডিয়াতে তার আগমন। টিভির পর্দায় পরিচিত মুখটি "আয়নাবাজি" সিনেমা দিয়ে পুরো দেশব্যাপী আলোড়ন তুলেছিলেন। প্রথম সিনেমার অভাবনীয় সাফল্যের পর মাসুমা রহমান নাবিলা এখন নিজের পরবর্তী সিনেমা নিয়ে ভাবছেন।

পহেলা বৈশাখে নির্দিষ্ট করে কোনো পরিকল্পনা রাখেন না নাবিলা। দিনটির পরিকল্পনা সম্পর্কে নাবিলা বলেন, “শুটিং না থাকলেও ওভাবে বের হওয়ার কোনো প্ল্যান নেই আপাতত। তবে হুটহাট বের হতে পারি। আর পরিবারের সঙ্গে কিছু সময় কাটানোর ইচ্ছা আছে। দেখা যাক কী হয়।”

জীবনটা এখন ব্যস্ততায় ভরপুর। ভার্সিটি জীবনের পহেলা বৈশাখের দিনগুলো মনে করে স্মৃতিকাতর হয়ে পড়েন নাবিলা। “আসলে তখন খুব মজার সময় ছিল। শাড়ি কিনতাম, সঙ্গে চুড়ি-গহনাও। বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরে বেড়াতাম প্রায় সারাদিন। এখন অবশ্য এসব করা হয় না। অনেক গিফট পাই যদিও। তবে এবার শাড়ি কিনেও ফেলতে পারি একটা। সেক্ষেত্রে লাল অথবা সাদা শাড়িই কিনবো।”

তারকা খ্যাতির পরও এই অভিনেতা অভিনেত্রীরা এখনও আগের বৈশাখ উদযাপনের দিনগুলো এখনও মনে করেন। আগের মতো ঘোরাঘুরির সুযোগ না পেলেওপরিবারের সঙ্গেই কাটিয়ে থাকেন এই বিশেষ দিনটি।

- ফাহিম মাশরুর