বৃহস্পতিবার,২৩ নভেম্বর ২০১৭
হোম / রূপসৌন্দর্য / ত্বক ও চুলের যত্নে চা-কফির ব্যবহার
০৪/০৪/২০১৭

ত্বক ও চুলের যত্নে চা-কফির ব্যবহার

-

প্রতিটি দিনের শুরু এবং দিন শেষে ক্লান্তি দূর করতে চা ও কফির কোনো তুলনা নেই। দিনের শুরুতে কফি যেমন বাড়তি শক্তি যোগায়, তেমনি দিনশেষে ক্লান্তি দূর করতে এক কাপ গরম চা-এর তুলনা নেই। তবে শরীর চাঙা করার পাশাপাশি ত্বক ও চুলের জন্যও এই উপাদানগুলো সমান উপযোগী।

ত্বক ও চুলের যত্নে কফি ও বিভিন্ন ধরনের চা বিশেষভাবে উপকারী। এই প্রতিবেদনে চা ও কফি কীভাবে ত্বকের যত্নে ব্যবহার করা যায়, তারই কিছু দিক তুলে ধরা হলো।

ত্বকের যত্নে কফি
চোখের নিচে কালো দাগ দূর করতে কফি দারুণ উপকারী। তাছাড়া চোখের নিচে রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যাও দূর করে কফি। বিভিন্ন নামি-দামি র্ব্যান্ডের আইসক্রিম তৈরিতে কফি ব্যবহৃত হয়। তাছাড়া বলিরেখা দূর করে তারুণ্য ধরে রাখতেও কফি সাহায্য করে। ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রেখে রোদের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে সুরক্ষিত রাখে কফি। তাছাড়া স্ক্রাব হিসেবেও কফির গুঁড়া ব্যবহার করা যায়।

মধুর সঙ্গে কফির গুঁড়া পরিমাণমতো মিশিয়ে আলতোভাবে ত্বকে ঘষে নিলে স্ক্রাব হিসেবে ভালো কাজ করবে। তাছাড়া মাস্ক হিসেবেও এটি ব্যবহার উপযোগী।

চুলের যত্নে কফি
অ্যান্টি অক্সিডেন্ট উপাদানে ভরপুর কফি ক্ষতিগ্রস্ত চুল সারিয়ে তুলতে সহায়তা করে। তাছাড়া চুল ভাঙা বা আগা ফাটা সমস্যার সমাধানেও কফি উপযোগী। চুলের বৃদ্ধি বাড়িয়ে চুল ঘন করতেও কফি সাহায্য করে। হেয়ার প্যাক তৈরিতে কফি ব্যবহার করা যেতে পারে। চুলে মেহেদি বা মেথি প্যাক লাগানোর আগে ওই প্যাকের সঙ্গে খানিকটা কফি মিশিয়ে নিলেই উপকার পাওয়া যাবে। দূষণের কারণে হওয়া চুলের ক্ষতি পুষিয়ে নিয়ে আলাদা ভলিউম যুক্ত করবে কফিমিশ্রিত হেয়ার প্যাক।

গ্রিন টি
গ্রিন টি অ্যান্টি অক্সিডেন্ট-এর ভালো উৎস। এটি ওজন কমাতে, শরীর থেকে দূষিত পদার্থ দূর করতে এবং ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।

ব্রণের দাগ দূর করতে
ব্রণের জেদি দাগ দূর করতে বেশ উপকারী গ্রিন টি। গরম পানিতে গ্রিন টি ব্যাগ ভিজিয়ে রাখতে হবে। পানি আলাদা করে নিয়ে ঠান্ডা করে মুখ ধোয়ার সময় ওই পানি ব্যবহার করুন। তবে ধোয়ার পর মুছে ফেলবেন না। পানি মুখে শুকাতে দিন, এতে ত্বক গ্রিন টি-এর নির্যাস শুষে নেবে। নিয়মিত
ব্যবহারে ত্বকের দাগ হালকা হয়ে আসবে।

গ্রিন টি ময়েশ্চারাইজার
সমপরিমাণে নারিকেল তেল, বাদাম তেল ও গ্রিন টি-র পাতা নিন। সঙ্গে কয়েক ফোঁটা এসেনশিয়াল তেল মিশিয়ে ভালোভাবে ব্লেন্ড করুন। সুগন্ধের জন্য সুগন্ধি এসেনশিয়াল অয়েল যুক্ত করা যেতে পারে। সব উপাদান ব্লেন্ড করার পর ঘন একটি মিশ্রণ তৈরি হবে। এটি মুখ এবং শরীরের জন্য বেশ উপকারী ময়েশ্চারাইজার।

চোখের যত্নে গ্রিন টি
দীর্ঘ সময় কম্পিউটারের সামনে বসে কাজ করা বা টিভি দেখার অভ্যাস, রোদের তাপ, বাইরের দূষণ এমনকি মেকআপ ইত্যাদি কারণে চোখের স্বাস্থ্যের ক্ষতি হতে থাকে। চুলকানো, জ্বালাপোড়া ভাব, লাল হয়ে যাওয়া এমনকি চোখ দিয়ে পানি পরা ইত্যাদি অনেক সমস্যা হতে পারে। এ সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে গ্রিন টি।

ব্যবহৃত গ্রিন টি-র ব্যাগ ফেলে না দিয়ে তা ঠান্ডা করে চোখের উপর দিয়ে ২০ মিনিট চোখ বুজে বিশ্রাম করুন। এটি চোখ পরিষ্কার করবে। পাশাপাশি চোখের শিরায় আরাম দেবে।

ঝলমলে চুলের জন্য
বিভিন্ন চুলের প্রসাধনীতে গ্রিন টি ব্যবহৃত হয়ে থাকে। তবে অযথা বাড়তি খরচ না করে নিজেই তৈরি করে নিতে পারেন চুলের উপযোগী গ্রিন টি কন্ডিশনার।

কন্ডিশনার
এক কাপ গরম পানিতে দু’টি টি ব্যাগ দিয়ে তার সঙ্গে দুই টেবিল-চামচ নারিকেল তেল এবং এক টেবিল-চামচ মধু ভালোভাবে মিশিয়ে নিতে হবে। এই মিশ্রণ চুলে লাগিয়ে ২৫ থেকে ৩০ মিনিট অপেক্ষা করুন। তারপর কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। চুল ঝলমলে হবে।

চুল পরিষ্কার করতে
ঝলমলে স্বাস্থ্যোজ্জ্বল চুল পেতে নিজেই তৈরি করতে পারেন পরিষ্কারক মিশ্রণ। সাধারণ তাপমাত্রায় তিন কাপ গ্রিন টি-এর সঙ্গে তিন টেবিল-চামচ লেবুর রস মেশান। চাইলে এক টেবিল চামচ লেমন এসেন্সিয়াল অয়েল সঙ্গে মেশাতে পারেন। ভালো ফলাফলের জন্য এই মিশ্রণ নিয়মিত ব্যবহার করতে হবে।

ক্যামোমাইল চা
রাসায়নিক উপাদান ছাড়াই চুল হাইলাট করতে ব্যবহার করা যেতে পারে ক্যামোমাইল চা। দু’টি ক্যামোমাইল টি ব্যাগ গরম পানিতে ভিজিয়ে রাখুন ১০ মিনিট। এর সঙ্গে দুই চা-চামচ লেবুর মিশিয়ে শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার ব্যবহারের পর চুল ধুয়ে ফেলতে ব্যবহার করুন। তবে এটি ধুয়ে ফেলবেন না। এই মিশ্রণটি চুলে হালকা বাদামি আভা আনতে সাহায্য করবে।

আদা-চা
আদার অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান ব্রণের সমস্যা সমাধানে সহায়তা করে। ভেষজ অ্যান্টিসেপটিক উপাদান হিসেবে কাজ করে আদা। তাই ত্বক পরিষ্কার ও ব্রণমুক্ত রাখতে সাহায্য করে আদা। চুলের জন্য আদা সমান উপকারী। মাথার ত্বকে রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে চুল মজবুত করতে সাহায্য করে। খুশকি দূর করে এবং চুল ঝলমলে রাখে। সপ্তাহে একদিন আদা মিশ্রিত চা দিয়ে চুল ধুলে উপকার পাওয়া যাবে।

- সামিরা আহসান