বুধবার,১৬ অগাস্ট ২০১৭
হোম / জীবনযাপন / রোমান্টিক সম্পর্ক ঘিরে কিছু ভ্রান্ত ধারণা
০৩/৩০/২০১৭

রোমান্টিক সম্পর্ক ঘিরে কিছু ভ্রান্ত ধারণা

-

অনেকেই সম্পর্কের ব্যাপারে বেশকিছু প্রচলিত ভ্রান্ত ধারণায় বিশ্বাস রাখেন, যার ফলে তাদের সম্পর্ক অনেক মেকি এবং দুর্যোগপূর্ন হয়ে যায়। এই ভ্রান্ত ধারনাগুলোর এক্সপেক্টেশন মিটানোই তখন হয়ে ওঠে সবকিছু ছাপিয়ে অনেক বেশি জরুরি। কিন্তু সম্পর্ক তো ধারনার ওপর চলে না। একে অন্যের প্রতি ভালোবাসা, শ্রদ্ধা, বিশ্বাস-এর ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে সম্পর্ক। দুজনের আন্তরিক ও সতস্ফুর্ত চেষ্টায় পরিপূর্নতা পায় সেই সম্পর্ক।

আসুন আলোচনা করা যাক প্রচলিত সেই ধরনের কিছু ভ্রান্ত ধারণা নিয়ে -- আপনাদের দুজনের সম্পর্কের ওপর একটি আলগা চাপ ফেলা ছাড়া যার আর তেমন কোন কার্যকারিতা নেই।

আপনার সম্পর্কটি সিনেমার মত হওয়া উচিত
অনেকেই আশা করে থাকে তাদের সম্পর্কটি রোমান্টিক সিনেমার মতো হবে, কিন্তু সেগুলো অধিকাংশ সময়ই নাটকীয় এবং কষ্টদায়ক। নাটকীয়তাকে আবেগ ও ভালোবাসার চিহ্ন হিসেবে না দেখে বরং স্থিতিশীলতা, বিশ্বাস এবং খারাপ সময় একসাথে কাটিয়ে ওঠার সামর্থ্যকে শক্তি হিসেবে দেখুন।

যদি আপনার মনে সন্দেহ থাকে, তবে আপনি ভুল মানুষটির সাথে আছেন
মাঝে মাঝে দ্বিধান্বিত হওয়া স্বাভাবিক, বিশেষত যদি আপনি আপনার পার্টনারের সাথে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করার পরিকল্পনা করেন। সাধারণত দেখা যায় এসকল দ্বিধা আপনার নিজের ব্যক্তিগত ভয় (যেমন দায়বদ্ধতার ভয়) থেকে এসে থাকে। মনে রাখবেন দ্বিধান্বিত হওয়া আর অসুখী হওয়া এক জিনিস নয়।

সত্যিকারের ভালোবাসা শর্তহীন হয়
অনেক চলচ্চিত্র ও বইয়ে এরকম ভালোবাসাকে সত্যিকারের ভালোবাসা হিসেবে দেখানো হয়, যা অনেকেই বিশ্বাস করে থাকে। কিন্তু মানুষ বদলায় – এবং এটিই স্বাভাবিক এবং স্বাস্থ্যকর। আপনি আপনার ভালোবাসার মানুষটির সাথে আছেন তার স্বকীয়তাকে ভালোবেসে। শর্তহীন ভালোবাসার চেয়ে দুজনের সম্পর্ক একসাথে গড়ে তোলা অনেক বেশি প্রয়োজনীয়।

আপনার সম্পর্কই আপনার সুখ
স্থিতিশীলতা এবং সুখ নিজ থেকে আসে। যদি আপনি কারোর ভালবাসাতেই শুধুমাত্র সুখ পান অথবা নিজকে অপরিপূর্ণ অনুভব করেন, তাহলে আপনি নির্ভরশীল হয়ে পরবেন, যা আপনার ভালোবাসার মানুষটির জন্য ন্যায্য নয়, আপনার মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও ঠিক নয়।

নিজেকে সময় দিন, যেন নিজকে ভালবাসতে পারেন। সম্পর্ক আপনার একাকীত্বের সমাধান নয়, বরং একজনের সাথে আপনার সুখ ভাগ করার, এবং বিশেষ একজনের সঙ্গ আপনার কাম্য বলে তার সাথে জীবন কাটানোর সুযোগ মাত্র।

ঈর্ষা ভালোবাসার চিহ্ন
এটি একটি গুরুতর ভুল ধারনা। ঈর্ষা প্রধানত অবিশ্বাসের চিহ্ন। সম্পর্কে নিরাপদ অনুভব করা অনেক বেশি জরুরী। আপনার সন্দেহ নিয়ে বেশী চিন্তা না করে বরং নিজের প্রতি বিশ্বাস রাখুন, সঙ্গীর প্রতি ও আপনাদের সম্পর্কের প্রতি বিশ্বাস রাখুন। সন্দেহ দেখা দিলে খোলাখুলি আলোচনা করুন। ইনসিকিউরিটিকে কখনই ঈর্ষাতে রূপ নিতে দেবেন না। তার আগেই সঙ্গীর সাথে কথা বলে মন থেকে ভয় ও ভাবনা দূর করুন।

কাউকে ভালবাসলে তার জন্য আপনি বদলে যেতে পারেন
একটি সুস্থ এবং সুখী সম্পর্কে ক্ষেত্র বিশেষে আপোস করা স্বাভাবিক একটি ব্যাপার। তবে আপোস করতে হবে সম্পর্কের জন্য, মানুষটির জন্য নয়। কারোর সাথে থাকার জন্য যদি আপনার স্বকীয়তা বদলাতে হয়, স্বাধীনতা জলাঞ্জলি দিতে হয় তবে তার সাথে সম্পর্কে সুখী হবার জন্য অনেক কষ্ট
করতে হবে।

আমার অনুভূতিগুলো আমার ভালোবাসার মানুষটির বোঝা উচিৎ
অনেকেই আশা করে থাকে যে তাদের ভালোবাসার মানুষ তাদের অনুভূতিগুলো এমনিতেই বুঝবে। আপনি মুখ ফুটে বলার অপেক্ষায় থাকবে না। কিন্তু মাঝে মাঝে আপনি নিজেও আপনার অনুভূতি এবং চাহিদা সঠিকভাবে বুঝতে পারেন কি? তাহলে কি ভাবে আশা করেন সঙ্গী আপনার মনের কথা পড়ে নেবে? বরং আপনার অনুভূতিগুলো নিয়ে মন খুলে তার সাথে কথা বলুন, তাকে আপনার অনুভূতি অনুভব করার সুযোগ দিন।

সবকিছু একসাথে করা উচিত
এটি আরেকটি ভুল ধারনা যা, কাপল, বিশেষ করে নতুন কাপলদের মধ্যে প্রায়শই লক্ষ্য করা যায়। নিজস্ব কিছু পছন্দ থাকা বেশ জরুরী। একটি সুস্থ সম্পর্কে দুজনেই ব্যক্তিগতভাবে বন্ধুত্ব, শখ, এবং ক্যারিয়ার বজায় রাখে। শুধুমাত্র একজনের সাথে সময় কাটানো আবেগের জন্য অস্বাস্থ্যকর এবং তা
আপনাকে একটি বন্দির দশায় নিয়ে যেতে পারে সহজেই।

একটি সুখী সম্পর্ক চালাতে কোনও প্রয়াসের প্রয়োজন নেই
একটি ভ্রান্ত বিশ্বাস বিদ্যমান যে একটি ভালো সম্পর্ক অনায়াসে চলতে থাকে এবং দুজন সকল ব্যাপারে একই মনোভাব রাখে। সম্পর্কের দুজন ভিন্ন মানুষ, এবং সবচেয়ে সুখী সম্পর্কের জন্যও কাজ, চেষ্টা এবং মনোযোগ প্রয়োজন। প্রত্যেকদিনই নিখুঁত হবে না, মাঝে মাঝে জীবন আঘাত হানবে এবং আপনাকে চিন্তাভাবনা করে চেষ্টা করতে হবে আপনার ভালোবাসার মানুষটিকে সুখী বানানোর।

আপনার সম্পর্কটি ঝগড়া মুক্ত হবে
অনেকেই আশা করে থাকে যে তাদের ভালোবাসার মানুষটির সাথে এতো মিল থাকবে যে তারা কোন বিষয়ে অসম্মত হবে না। কিন্তু মানুষ মিশ্রিত মত-বুদ্ধির এবং নিজ মতে অটল থাকে। তাই এটি মাথায় রাখতে হবে যে নিজের মতামত প্রকাশ করা ভুল কিছু নয়, এমনকি যখন আপনি সম্মতি পোষণ করবেন না তখনও।

- রিদোয়ান