মঙ্গলবার,২২ অগাস্ট ২০১৭
হোম / ফ্যাশন / রূপার গয়নায় অপরূপা
০৩/৩০/২০১৭

রূপার গয়নায় অপরূপা

-

যে কোনো ধরনের পোশাকের সঙ্গেই বেশ মানিয়ে যায় রূপার তৈরি গয়না। ভারি হোক বা ছিমছাম, যে কোনো স্টাইলেই গড়ে নেওয়া যাবে রূপার গয়না।
রূপার গয়না দেশিয়, ওয়েস্টার্ন এবং ফিউশন তিন ধরনের পোশাকের সঙ্গেই মানিয়ে যায়। বিশেষ করে পোশাকে যদি রূপালি সুতোর কাজ থাকে, তাহলে তো আরও ভালো লাগে। এছাড়াও যে কোনো ধরনের পোশাকের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া যায় রূপালি গয়না।

স্বর্ণের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই বাড়তে শুরু করেছে রূপার গয়নার কদর। নিয়মিত ব্যবহার হোক বা কোনো অনুষ্ঠানে যারা গয়না পরতে ভালোবাসেন, তারা সবাই বেছে নিচ্ছেন রূপাকে। মনের মতো করে তৈরি করে নেওয়া যায় রূপার গয়না। চাইলে পাথরের কাজও করানো যায় এতে। এছাড়া এখন গোল্ড প্লেটিং বা সোনার পানিতে ধুয়ে রূপার উপর সোনালী রং আনা যায়। আমাদের দেশিয় ঐতিহ্যে রূপার গয়না বেশ পুরাতন। দীর্ঘদিন ধরেই অলঙ্কারপ্রেমী নারীদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে রূপার গয়না।

পছন্দসই রূপার গয়নার জন্য চাঁদনি চক, নিউমার্কেট ও মৌচাক মার্কেটের রূপার দোকানগুলোতে যেতে পারেন। তবে ঢাকায় সবচেয়ে বেশি রূপার দোকান রয়েছে শাঁখারিবাজার বা তাঁতিবাজার এলাকায়। এসবের পাশাপাশি ভিন্নধর্মী ডিজাইনের রূপার গয়নার খোঁজে যেতে পারেন ‘আড়ং’-এর যে কোনো বিপণনকেন্দ্রে।

শাঁখারিবাজার বা তাঁতিবাজার এলাকায় সোনার দোকানের পাশাপাশি শ’খানেক রূপার দোকান রয়েছে। এসব দোকানে রূপার নেকলেস, দুল, পাশা, চেইন, বালা, চুড়ি, পায়েল, হাতের ও পায়ের আংটি পাওয়া যায়। শিশুদের জন্য আছে ব্রেসলেট। আরও আছে রূপার সিঁদুরকৌটা, পানদানি, আতরদানি। শুধু গয়না নয়, শৌখিন মানুষরা ওই সব দোকানে পেয়ে যাবেন রূপার তৈরি প্লেট, বাটি, চামচ, সুরমাদানি এবং নানারকম শোপিস।

এসব দোকানে তৈরি গয়না ও অন্যান্য জিনিসের পাশাপাশি পছন্দসই নকশার গয়না অর্ডার দিয়েও বানিয়ে নেওয়ার সুযোগ পেয়ে যাবেন। রূপার গয়নার দাম নির্ধারিত হয় ওজন অনুসারে। তার সঙ্গে যোগ হয় মজুরি। বর্তমানে রূপার দাম প্রতি ভরি ১৬শ থেকে ১৮শ টাকা।

গয়না বানানোর ক্ষেত্রে প্রথমেই কতটুকু রূপা লাগবে, তা মেপে নেওয়া হয়। এরপর নকশা ভেদে এবং ব্যবহৃত আনুষঙ্গিক জিনিসের বিচারে মজুরি নির্ধারণ করা হয়। অর্থাৎ স্টোন বসানো বা মিনা করা হবে অথবা গোল্ড প্লেটিং এসব বিচারে মজুরি ঠিক করা হয়ে থাকে।

রূপার দাম নির্ভর করে তার বিশুদ্ধতা বা তা কতটুকু খাঁটি, তার উপর। ফাইন সিলভার বা বিশুদ্ধ রূপা ৯৯.৯ শতাংশ খাঁটি। তবে এই রূপা বেশি নরম বলে কোনো গয়না তৈরি করা যায় না। গয়না বানাতে হলে রূপায় খাদ মেশাতে হয়।

যে রূপা দিয়ে গয়না তৈরি হয়, তাকে স্ট্যান্ডার্ড রূপা বা স্টার্লিং সিলভার বা চান্দি বলে। এতে ৯২.৫ শতাংশ রূপার মধ্যে ৭.৫ শতাংশ তামা মেশানো হয়। আরও রয়েছে জাঙ্ক সিলভার, যাতে খাদের পরিমাণ বেশি হয়ে থাকে। এ ধরনের রূপা দিয়ে সাধারণত থালা, বাটি, চামচ ও অন্যান্য শোপিস তৈরি হয়।

রূপার গয়না বেশ কিছুদিন ব্যবহার করা হলে তা কালচে হয়ে যায় এবং জেল্লা হারায়। তবে সঠিকভাবে পরিষ্কার করা হলে তা আবারও চকচকে হয়ে ওঠে।
ভেজা নরম কাপড়ে ডিটারজেন্ট নিয়ে কালো হয়ে যাওয়া রূপা ঘষে পরিষ্কার করে নেওয়া যায়। এক্ষেত্রে নরম টুথব্রাশও ব্যবহার করা যেতে পারে। সব শেষে পানিতে ধুয়ে নিলেই তা চকচকে হয়ে উঠবে। তবে কালচেভাব বেশি হলে অলঙ্কারের দোকানে দিয়ে পলিশ করিয়ে নিলে তা আবার নতুন হয়ে উঠবে।

গোল্ড প্লেটিং করা রূপার গয়নাও ব্যবহারের ফলে রং মলিন হয়ে যায়। এক্ষেত্রে দোকানে দিয়ে নতুন করে সোনার পানিতে ধুয়ে নেওয়া যেতে পারে।

কখনওই গয়না পরে পারফিউম বা বডি স্প্রে ব্যবহার করা উচিত নয়। কারণ গয়নায় সুগন্ধি লাগলে তা অনেক ক্ষেত্রে এর রং নষ্ট করে দিতে পারে।

- সামিরা আহসান