রবিবার,২০ অগাস্ট ২০১৭
হোম / অন্দর-বাগান / সিঙ্গেল নারীর মনোরম নীড়
০৩/২৩/২০১৭

সিঙ্গেল নারীর মনোরম নীড়

-

খুব সামান্য সংখ্যায় হলেও, আমাদের দেশেও এখন একা কর্মজীবী নারীরা হোস্টেল বাদেও নিজস্ব/ভাড়ার ফ্ল্যাট অথবা অ্যাপার্টমেন্টে থাকছে। আর নিজের সেই বাসাটি মনমতো সাজানো মেয়েদের জন্য অবশ্যই একটি বিশেষ তৃপ্তিকর ও সুন্দর অভিজ্ঞতা। আর কেনইবা নয়? থাকার জায়গাটি যে একান্তই আপনার নিজের। তাহলে জেনে নিন কিভাবে সাজাবেন আপনার প্রিয় নীড়।

শোবারঘর
শোবার ঘরে প্রথমেই থাকতে হবে একটি আরামদায়ক বিছানা। ফ্লোরাল চাদর, বালিশের পাশাপাশি থাকবে কালারফুল কুশন। বেডসাইড টেবিলে অবশ্যই ল্যাম্প রাখুন, এতে আলো নিভানো বা জ্বালানোর জন্য ওঠার প্রয়োজন হবে না। মিউজিক সিস্টেম ও বুকশেলফের জন্য আলাদা একটি কর্নার খালি রাখুন। দেয়ালে খালি জায়গা রেখে একটি লম্বা ও বড় আয়না লাগিয়ে নিন। এতে "কেমন দেখাচ্ছে আমাকে?"-- এই প্রশ্নটি অন্য কাউকে জিজ্ঞেস করার দরকার হবে না। ছিমছাম করে সাজিয়ে নিন শোবার ঘর।

বসার ঘর
ড্রয়িং রুম বা বসার ঘর হওয়া উচিত আপনার রুচির পরিচায়ক ও ব্যক্তিত্বের প্রতিফলক। সিঙ্গেল নারী হিসেবে খুব বেশি ফার্নিচারের প্রয়োজন নেই বাড়িতে, তাই ড্রয়িং রুমটি মার্জিত ও সিম্পেল রাখুন। কালারফুল কুশন ও পর্দা ঘরটিকে প্রাণবন্ত ও আকর্ষণীয় করে তুলবে। একা থাকলে আপনার বাসায় প্রায়ই বন্ধু-বান্ধবের আড্ডা বসতে পারে, তাই বসার ঘরে একটি কার্পেট বিছিয়ে দিন নিচে কফি খেতে খেতে বই পড়া অথবা আড্ডার জন্য। তবে আরামদায়ক কাউচ বা সোফাও প্রয়োজন অতিথি আপ্যায়নে। ঘরের কর্নারে ল্যাম্প আলো-ছায়ার খেলা তৈরি করবে, সাথে একটি নান্দনিক ভাব আসবে ঘরে। সুযোগ থাকলে বিশেষ দিনগুলোতে ল্যাম্পের সঙ্গে মোমবাতি জ্বালানোর ব্যবস্থাও রাখুন। কয়েকটি ছোটো-বড়ো গাছ বা ফুলদানিতে তাজাফুল রাখলে প্রাণের ছোঁয়া আসবে ঘরটিতে।

ডাইনিং রুম
অনেক সিঙ্গেল এপার্টমেন্টেই আলাদা ডাইনিং রুম বা খাওয়ার জায়গা থাকে না। সেক্ষেত্রে বসার ঘরের কিছু জায়গা ডাইনিং স্পেস হিসেবে আলাদা করে নিতে হবে। চেষ্টা করুন টেবিলটি টেলিভিশনের সরাসরি রাখতে। ডাইনিং টেবিলের কাছেই টোস্টার ও কফি মেকারটি রাখুন। এতে খাবারের সময় বারবার উঠতে হবে না আপনাকে।

রান্নাঘর
একা বাসায় থাকলে হয়তো নিজের রান্নাসংক্রান্ত সব কাজ নিজেকেই করে নিতে হবে। মাইক্রোওয়েভ ওভেন, ব্লেন্ডার, রাইস কুকার, এগ বিটার, টোস্টার, রেফ্রিজারেটর জাতীয় প্রয়োজনীয় জিনিস কিনে নিন যাতে কম সময়ে ও সহজেই খাবার তৈরি করে নিতে পারেন। ফ্রিজটি রান্নাঘরেই রাখুন, এতে সব কাজে সুবিধা হবে। ফ্রিজের কাছাকাছি কোথাও একটি ফয়েল পেপারের স্ট্যান্ড ও মাইক্রোওয়েভটি রাখবেন, এতে সহজে খাবার ফ্রিজার থেকে বের করে গরম করতে পারবেন আবার চট করে অবশিষ্ট খাবার ফয়েল পেপারে পেঁচিয়ে ফ্রিজে রেখেও দিতে পারবেন। চেষ্টা করবেন হাতের কাছেই প্রয়োজনীয় ছুরি-চামচ, ননস্টিক প্যান রাখার। যেহেতু আপনি একা থাকবেন, একটি কিচেন সেট-ই রাখুন দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য, এতে রান্নাঘর হালকা থাকবে এবং আপনার কাজও কমে যাবে অনেকাংশে।

একা থাকার অগণিত সুবিধার সঙ্গে কিছু সমস্যাও আছে। আপনার কাজে সাহায্য করার মানুষ পাবেন না চাইলেই। তাই অ্যাপার্টমেন্টটি এমনভাবে সাজান যেন হাতের কাছেই সবকিছু পান।

খেয়াল রাখবেন:

- যেহেতু আপনি একা থাকেন, চাইলে কোনো পোষা প্রাণীও নিয়ে নিতে পারেন। তবে কুকুর বা বেড়ালের জন্য দেখভালের মানুষ দরকার। মাছ, খরগোশ, কচ্ছপ বা পাখি কিনে নিতে পারেন এক্ষেত্রে। ঘরে প্রাণবন্তভাব থাকা খুবই জরুরি, এতে একাকিত্ব কমে যায়।

- পশু-পাখি রাখতে না চাইলে কয়েকটি দীর্ঘজীবী গাছ দিয়ে এপার্টমেন্টটি সাজিয়ে ফেলুন। এতে শুধু ফ্রেশ অনুভূতি আসে না, বাড়ির সৌন্দর্যও বৃদ্ধি হয়।

- আপনি একা থাকেন বলেই সবসময় একা থাকতে হবে এমন নয় কিন্তু। চেষ্টা করুন অতিথিদের আপ্যায়ন করার। ফ্রিজে চকলেট বার, প্যাকেটজাত খাবার রাখুন, যাতে বন্ধু-বান্ধবরা হঠাৎ আসলে অপ্রস্তুত অবস্থায় পরতে না হয়। অতিথিদের জন্য আলাদা খাবারের ডিশ, তোয়ালে ইত্যাদি কিনে রাখুন।

- ঘর থেকে বের হবার পথে মাটি বা মেটালের তৈরি একটি পাত্র রাখুন। এতে ঘরের চাবি, ছাতা, ভাংতি টাকা ইত্যাদি রাখুন।

- নুসরাত ইসলাম