শুক্রবার,২৪ নভেম্বর ২০১৭
হোম / স্বাস্থ্য-ফিটনেস / দাঁতের যত্নের ৮টি মন্ত্র
০৩/২৩/২০১৭

দাঁতের যত্নের ৮টি মন্ত্র

-

আপনার মূল্যবান দাঁতের কোনো প্রাকৃতিক বিকল্প নেই। দাঁতের একবার ক্ষতি হলে তা মেরামত করা বেশ ব্যয়বহুল কাজ। অনেক সময় দাঁতের এত মারাত্মক ক্ষতি হয় যে, তা কোনোভাবেই সারিয়ে তোলা যায় না। তাই ক্ষতি হয়ে যাওয়ার আগেই দাঁতের সঠিক যত্ন নেওয়া উচিত।

ফ্লস করছেন তো?
বেশিরভাগ মানুষই দিনে দু’বার ব্রাশ করে অভ্যস্ত। তবে অনেকেই জানেন না যে ফ্লস করে দাঁতের ফাঁকগুলো পরিষ্কার করে নেওয়াও জরুরি। ফ্লস না করলে দাঁতের ফাঁকে খাবার আটকে থাকে, যা ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার জন্ম দেয়। যা আপনার দাঁতের ক্ষয় হওয়ার জন্য দায়ী। তাই ব্রাশ করার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিদিন ফ্লস করার অভ্যাস করা উচিত। তাছাড়া সঠিকভাবে ফ্লস করে নিলে আপনার মুখের দুর্গন্ধ থেকেও রেহাই পাবেন।

পুরাতন টুথব্রাশ বর্জন করুন
একই টুথবব্রাশ অনেক দিন ধরে ব্যবহার করা মোটেও স্বাস্থ্যসম্মত নয়। বেশি দিন একই ব্রাশ ব্যবহার করলে তার মধ্যে মারাত্মক জীবাণু বাসা বাঁধে, যা আপনার মাড়িতে ইনফেকশনের কারণ হতে পারে। তাছাড়াও পুরাতন টুথব্রাশ প্রকৃতপক্ষে কোনো কাজ করে না। কারণ ব্রাশের তারগুলো নরম হয়ে যায়।

অতি শক্ত ব্রাশ ব্যবহার করবেন না
আপনি হয়তো মনে করছেন শক্ত ব্রাশ দিয়ে অধিক বল প্রয়োগ করে দাঁত পরিষ্কার করলে আপনার উপকার বেশি হবে। কিন্তু আপনার এই অভ্যাস আপনার মাড়ি এবং দাঁতের এনামেলের (সাদা অংশ) সবচেয়ে বড় শত্রু। শক্ত ব্রাশ এবং বেশি বল প্রয়োগের ফলে আপনার মাড়ি পর্যায়ক্রমে দেবে যাবে, এবং দাঁতের এনামেল ক্ষয় হয়ে শেকড়ে শিরশিরে অনুভূতি হবে।

খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্রাশ করছেন কি?
আরেকটি ভুল ধারণা হচ্ছে খাওয়ার পরপরই দাঁত মাজা উচিত। খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দাঁত ব্রাশ করলে আপনার মুখের পাচক অম্ল বা এসিড দাঁতের এনামেলের সঙ্গে রাসায়নিক বিক্রিয়া করে, যার ফলে তা পর্যায়ক্রমে ক্ষয় হওয়া শুরু করে। তাই খাওয়ার পর দাঁত মাজার জন্য ন্যূনতম ত্রিশ মিনিট অপেক্ষা করা উচিত।

মিষ্টি এবং চিনি
প্রক্রিয়াজাত চিনি এবং মিষ্টি, দাঁত এবং মাড়ির ক্ষতির অন্যতম কারণ। মুখের ভেতরের ব্যাকটেরিয়া চিনি সেবন করে এক প্রকারের এসিড উৎপাদন করে, যা অধিক সময় ধরে থাকলে দাঁতের এনামেল দ্রুত নষ্ট হতে থাকে। যে-কোনো প্রকার চিনিজাত খাবার কিংবা মিষ্টি খেলে অবিলম্বে দাঁত ব্রাশ করে নিন।

তামাক
তামাক সেবন দাঁতের ক্ষয়ের অন্যতম কারণ। ধূমপান করার চেয়ে তামাক চিবানো বেশি ক্ষতিকর, কেননা তা মাড়ির রক্ত সঞ্চালন বন্ধ করে দেয় এবং মুখে ক্যানসারের আশঙ্কা বাড়িয়ে দেয়। অতিরিক্ত ধূমপান করলেও আপনার দাঁত এবং মাড়ির ক্ষতি হয়।

অযথা বরফ খাবেন না
বরফ মুখে নিয়ে রাখলে দাঁতের এনামেলের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়। মাড়ির স্নায়ুকে দুর্বল করে দেয় বরফ। তাছাড়াও দাঁতের ব্যাকটেরিয়া ঠান্ডার মধ্যে খুব দ্রুত প্রজনন করতে পারে। এতে আপনার দাঁতের শেকড়ের ক্ষতি হয় এবং ইনফেকশনের আশঙ্কা বেড়ে যায়।

যন্ত্রপাতি ব্যবহার করুন
পণ্যের মোড়ক খুলতে, জামার ট্যাগ ছিঁড়তে কিংবা বোতলের ক্যাপ খুলতে আমরা প্রায় সময় দাঁত ব্যবহার করে থাকি। এই বদঅভ্যাস আপনার মাড়ি এবং দাঁতের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। দাঁতের ব্যবহার খাওয়াদাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা উত্তম। এভাবে এসব কাজ না করে কাঁচি কিংবা অন্যান্য যন্ত্রপাতি ব্যাবহার করুন।

- কাজী নাসিফ