রবিবার,২০ অগাস্ট ২০১৭
হোম / অন্দর-বাগান / বাড়িতেই বানিয়ে ফেলুন আপনার জিম
০৩/১২/২০১৭

বাড়িতেই বানিয়ে ফেলুন আপনার জিম

-

জিমে যাওয়া প্রতিটি নারী-পুরুষের জন্যই প্রয়োজনীয়; কিন্তু ঘর এবং বাইরের সকল কাজ সামলে অনেকেরই শেষ পর্যন্ত আর নিয়মিত জিমে যাওয়া হয়ে ওঠে না। তাই বলে কি আর শরীরচর্চায় মন দেবেন না?

সমাধান হিসেবে বাড়িতেই তৈরি করুন আপনার জিম। এরজন্য কিন্তু আপনাকে আকাশচুম্বী খরচ করতে হবে না। বরং বেঁচে যাবে আপনার জিমে যাতায়াতের খরচ, জিমের সদস্য ফিস ও সেই সাথে মূল্যবান সময়। তো প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি দিয়ে নিজের পছন্দমতো বানিয়ে ফেলুন আপনার হোম জিম। কি কি উপাদানে সাজাবেন আপনার জিম তা নিচে বলে দেওয়া হলো।

এক্সারসাইজ ম্যাট: এটি জিম সাজানোর প্রাথমিক একটি উপাদান। ওয়ার্কআউট, যোগব্যায়াম, পিলাটিজ, টোনিং এক্সারসাইজ ইত্যাদির জন্য এটা মৌলিক একটি উপাদান। ঘরে কার্পেট না থাকলে নো-স্লিপ ম্যাটের ব্যবস্থা করুন।

অ্যারোবিকস সিঁড়ি: অ্যারোবিকস স্টেপস বা ওজন বেঞ্চ হিসেবে এগুলো খুব কাজে লাগে। পায়ের পেশির জন্য এটি অসাধারণ একটি ব্যায়াম।

ওয়ার্কআউট বল: এটি পেটের ব্যায়ামের জন্য যথাযথ একটি উপাদান, যা ব্যালেন্স ও শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে।

বারবেল: বারবেল হলো ভারী ওজন ওঠানোর সরঞ্জাম। যদি আপনি প্রফেশনাল জিমে ভার উঠিয়ে অভ্যস্ত থাকেন, তাহলে কিনে নিন এগুলো।

রেজিসটেন্স ব্যান্ড ও টিউব: পেশির স্থিতি বজায় রাখার জন্য এটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। রেজিসটেন্স ব্যান্ড দ্বারা সমস্ত শরীরের অনেক ধরনের ব্যায়াম করা যায়। আপনার নির্ধারিত ব্যায়ামস্থলে বিল্টইন ওয়েটসহ একটি রেজিস্ট্যান্স মেশিন থাকলে সুন্দরভাবে ব্যায়ামের কাজ চালানো যাবে। একটি স্ট্যাবিলিটি বলের পিছনে অর্থ ব্যয় করাটা উত্তম বিনিয়োগ হতে পারে; কারণ এটি কেন্দ্রীয় পেশিগুলোর গঠনে সহায়তা করে, যার দ্বারা সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখা সম্ভব হয়। আপনি যদি স্ট্যাবিলিটি বল না কিনে থাকেন তবে সেক্ষেত্রে আপনি ব্যায়ামের জন্য একটি অ্যাডজাস্টেবল বেঞ্চ কেনার কথা ভাবতে পারেন। আর কয়েকটি হ্যান্ডহেল্ড ওয়েটও কিনে নিন।

ডাম্বেল সেট: এটি একটি বহুমুখী ও ভালো বিনিয়োগ জিমের জন্য। চর্বি বার্ন করানো থেকে শুরু করে পেশি গঠন করা পর্যন্ত সবকিছুর জন্য এটি উপযুক্ত।

মেডিটেশন রুম: অনেকেই শিথিলায়নের জন্য ব্যায়াম করে থাকেন। তারা একটি প্রশান্ত পরিবেশ চান যেখানে ব্যায়ামের ঠিক পরেই তারা যেন একটু ধ্যান অথবা যোগাসন চর্চা করে নিতে পারেন। সরঞ্জাম অবশ্যই ওই অনুযায়ী কিনতে হবে।

জিম তৈরির আগে করনীয়:

* প্রথমেই ব্যায়ামের জন্য আপনার বাড়ির নির্দিষ্ট কোনো স্থান বের করুন। এর জন্য আপনি একটি নির্ধারিত ব্যায়ামকক্ষ তৈরি করে নিন। ছোটো কোনো একটি অতিরিক্ত ঘরকে হোম জিম হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। জিমের ঘর হিসেবে একটি খোলামেলা ও আরামদায়ক জায়গা বেছে নিন।

* ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে ঠিক করে নিতে হবে ওজন কমানোর জন্য আপনি কোন্ ব্যায়াম করছেন, এবং তা কতটুকু ওজন কমানোর জন্য। ওজন কমানোর জন্য নাহলে আপনি আপনার জিমটিকে শিথিলায়ন ও ধ্যানকক্ষ (মেডিটেশন রুম) হিসেবে গড়ে তুলুন।

* ধীরেসুস্থে জিমের প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো কেনা শুরু করুন। অন্যথায় এটি আপনার জন্য ব্যায়বহুল একটি প্রক্রিয়ায় পরিণত হতে পারে। যেমন আপনি একটা ট্রেডমিল দিয়েও শুরু করতে পারেন। তারপর আপনার ব্যায়ামের অগ্রগতির সাথে সাথে আরও বেশি সরঞ্জাম কিনতে থাকবেন।

* ব্যায়ামের বেশিরভাগ যন্ত্রপাতি আপনি স্বল্পমূল্যে পেতে পারেন, যদি পুরানো সরঞ্জাম কিনতে পারেন সুবিধামতো। তাহলে স্বাভাবিক দামের চেয়ে অনেক কমে কিনতে পারবেন। ব্যবহৃত স্টেশনারি বাইক, স্টেয়ার ক্লাইম্বার্স এবং মাল্টিস্টেশন ওয়েট মেশিনও কিনতে পাওয়া যায় অনেক দোকানেই।

* বুদ্ধিমত্তা প্রয়োগ করে সরঞ্জামগুলো কিনুন এবং নির্দিষ্ট কোনো ব্যায়াম থাকলে সেটির ক্ষেত্রে দরকারি সবকিছু আগে কিনুন। হ-য-ব-ড়-ল ভাবে সব কিনলে কোনোটিই কাজে লাগবে না। যেমন আপনি যদি ওজন কমানোর চেষ্টায় থাকেন তবে আপনার জন্য জরুরি হলো হৃদপিণ্ডের ব্যায়ামের ছক অনুসারে শুরু করা, পাশাপাশি শক্তিবৃদ্ধির প্রশিক্ষণমূলক ব্যায়ামের ছক অনুসরণ করা। যারা পেশি গঠন করতে চান তাদের পক্ষে উচিত হলো বেঞ্চ এবং ওয়েট দিয়ে শুরু করা এবং ঠিকমতো স্টেপগুলো নেয়া হচ্ছে কিনা তা নিশ্চিত করার জন্য একটি আয়না রাখা।

* ব্যায়ামকক্ষে গান বাজানোর ব্যবস্থা করে নিন এবং সাথে হালকা ও তীব্র দুই রকমের লাইট লাগিয়ে নিন। গান, মন ও শরীরকে রিল্যাক্স করতে সহায়তা করে এবং ব্যায়ামের ধরনের উপর নির্ভর করে লাইট থাকাটাও খুবই প্রয়োজনীয়। এছাড়া কক্ষটিকে আকর্ষণীয় করে তুলতে আপনি সেখানে কিছু ইনডোর প্ল্যান্টেরও ব্যাবস্থা রাখতে পারেন, সৌন্দর্য বাড়ানোর পাশেপাশে সেগুলো ব্যায়ামকক্ষে অক্সিজেনের যোগান দিতেও সাহায্য করবে।

- নুসরাত ইসলাম