শুক্রবার,২৪ নভেম্বর ২০১৭
হোম / জীবনযাপন / বাবা-মার বদ অভ্যাস যা শিশুর জন্য ক্ষতিকর
০৩/১২/২০১৭

বাবা-মার বদ অভ্যাস যা শিশুর জন্য ক্ষতিকর

-

বর্তমান সময়ে শিশুর মানসিক বিকাশ এবং বেড়ে উঠা নিয়ে অভিভাবকদের চিন্তার শেষ নেই। শিশু যাতে যথাযথ শিক্ষা পেয়ে সব ধরণের মানবীয় গুণাবলি আত্মস্থ করতে পারে সেজন্য মোটা অংকের অর্থ খরচ করে ভাল স্কুল বা একাধিক গৃহশিক্ষক নিয়োগ করতে পিছপা হননা বাবা-মা। অনেকে আবার শিশুকাল থেকেই কড়া শাসনের মধ্যে সন্তানের লালন-পালন করেন যেন সন্তানের মনের ঘরে কোন বাজে অভ্যাস বাসা বাঁধতে না পারে। তবে শিশুকে ঘিরে এতসব আয়োজনের মাঝে অনেকে বাবা-মাই ভুলে যান যে সন্তানের জন্য সবচেয়ে বড় শিক্ষক আসলে তারা নিজেরাই। জন্মের পর থেকে প্রতিটি শিশুই মা-বাবার আচরণ, কথাবার্তা অনুকরণ করার চেষ্টা করে। তাই শিশুর যথাযথ বিকাশ নিশ্চিত করতে আগে অভিভাবকদের আচরণ, কথাবার্তা এবং জীবনদর্শন হতে হবে মার্জিত। বাদ দিতে হবে বদভ্যাস। সেই সাথে শিশুর প্রতি অতিরিক্ত নজরদারি বা শাসন বাদ দিয়ে সুন্দর সম্পর্ক গড়ে তোলাটাও বেশ জরুরী।

অতিরিক্ত আত্মসমালোচোনা পরিহার করুন
নিজের সমালোচনা করতে পারাটা অবশ্যই ভাল গুণ। তবে অতিরিক্ত সমালোচনা আপনার শিশুর মানসিক বিকাশে বাঁধা সৃষ্টি করতে পারে। মা-বাবা যদি সবসময় আত্মসমালোচোনা এবং অনুশোচনায় মগ্ন থাকেন তবে তা তাদের সন্তানের আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দিতে পারে।

ভার্চুয়াল জগত ছেড়ে বাস্তবে ফিরে আসুন
আধুনিক সমাজে ই-মেইল, ফেইসবুকিং কিংবা এসএমএস ছাড়া আমাদের জীবন প্রায় অচল বলা চলে। তবে পরিবারের সদস্যদের ভার্চুয়াল জগতে অতিরিক্ত সময় কাটানোর অভ্যাস থাকলে শিশুদের মধ্যেও এই প্রবণতা দেখা দেবে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে যেসব শিশু টিভি, কম্পিউটার বা মোবাইল স্ক্রিনের সামনে বেশি সময় পার করে তাদের পড়াশোনায় মনো্যোগ কমে যাওয়ার পাশাপাশি স্থূলতা বা ঘুমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই অন্তত প্রতিদিন খাবার টেবিলে কিংবা পারিবারিক আলোচনার সময় মোবাইল জাতীয় ডিভাইস ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।

বস্তুবাদী চিন্তা বাদ দিন
জন্মের পর থেকেই কন্যাশিশুদের ক্ষেত্রে তাদের বাহ্যিক সৌন্দর্য বৃদ্ধি করার উপর জোর দেয়া হয়। সর্বঅবস্থায় নিজেকে সুন্দর করার প্রবণতা একটি মেয়ের সঠিক বিকাশে বাঁধে সৃষ্টি করে। বাহ্যিক নয়, সন্তানের সৃজনশীলতা কে উৎসাহ দিন। ছোটবেলা থেকেই সন্তানকে খেলাধুলোর প্রতি আকৃষ্ট করুন। এর ফলে আপনার সন্তান চাপমুক্ত থাকবে।

শিশুর সামনে ধুমপান, মদ্যপান বন্ধ করুন
দুশ্চিন্তা এবং মানসিক যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে অনেকেই মদ্যপান করে থাকেন। তবে মদ্যপান প্রকৃতপক্ষে কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। সন্তানের সামনে মদ্যপান বা ধূমপানের অভ্যাস থাকলে তা আপনার শিশুর শারিরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়াবে কারণ পরবর্তী জীবনে আপনার সন্তানও তা অনুসরণ করতে পারে। এছাড়া অতিরিক্ত চা, কফি খাওয়ার মতো অভ্যাসও পরিহার করা উচিত।

সর্বক্ষেত্রে প্রতিযোগিতার মনোভাব থেকে বিরত থাকুন
আপনার সন্তানকে সবসময় প্রতিবেশী কিংবা সহপাঠীদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে এমন ধারণা বাদ দিন। এক্ষেত্রে সন্তান তার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে কিনা তা নিশ্চিত করুন এবং তার ভাল কাজের প্রশংসা করুন। এছাড়া শিশু যাতে তার পছন্দের কাজ ঠিকমতো করতে পারে তা নিশ্চিত করুন।

মেজাজ নিয়ন্ত্রণ করুন
যদি আপনি আপনার শিশুর সঙ্গে সবকিছু নিয়েই খিটখিট করেন তবে শিশুর কাছে এটাই স্বাভাবিক বলে মনে হবে। এর ফলে শিশু স্বভাববশতই এমন আচরণ অনুকরন করবে যা মোটেই ঠিক নয়। বেশির ভাগ সময়ই মানসিক চাপ খিটখেটে মনোভাব তৈরি করে। মানসিক চাপ ঠিকমতো নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে নিজেকে শান্ত রাখার কৌশল বের করতে হবে।

অন্যদের নিয়ে অতিরিক্ত আলোচোনা বন্ধ করুন
সন্তানের সামনে অন্য কারো চেহারা বা আচরণ নিয়ে সমালোচনা একেবারেই অনুচিত। অনেক সময় এটি অভ্যাসগত হলেও তা দূর করা উচিত। মুভি, টিভি অনুষ্ঠান বা সেলিব্রেটিদের নিয়ে অতিরিক্ত গল্পগুজব করে সময় নষ্ট করাটাও ঠিক না। শিশুর উপর বিরূপ প্রভাব পরবে। এবং সেও একটা সময় অন্যের সমালোচনা করতে শুরু করবে যা কোনভাবেই কাম্য নয়।

উপরোউক্ত নির্দেশনাগুলো অনুসরণের পাশাপাশি সন্তানের সঙ্গে বন্ধুসুলভ আচরণের মাধ্যমে সুসম্পর্ক গড়ে তোলা উচিত। এছাড়া নিজ সন্তানের সঙ্গে সম্পর্ক ভাল না থাকলে তা এড়িয়ে না গিয়ে সুসম্পর্ক স্থাপনের জন্য উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহন করুন।

- নাইব